পাকিস্তানে বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি ও তার স্বামী হাদি আলি ছাট্টাকে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আদিয়ালা কারাগারে স্থাপিত আদালতে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। চলতি বছরের শুরু থেকেই এই কারাগারে বন্দী রয়েছেন ইমান মাজারি ও তার স্বামী।
নিরাপত্তা লঙ্ঘনের মামলায় ১০ বছরের সাজা ছাড়াও সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলার পৃথক অভিযোগে তাদের যথাক্রমে এক বছর ও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে সব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।
রাজনৈতিক কর্মীদের গুমের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং সংখ্যালঘু ও সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ইমান মাজারি ও তার স্বামীর কারাদণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
২০২৪ সালের একটি মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের মাধ্যমে তারা একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা পরিকল্পনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিলেন। তবে রয়টার্সের দেখা এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা। নিজেদের বিবেকের বন্দী উল্লেখ করে এই দম্পতি দাবি করেছেন, মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার কারণেই তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার বারবার বলে আসছেন, দেশটির বিচার বিভাগ স্বাধীন। তবে ইমান মাজারির মা ও সাবেক মানবাধিকারমন্ত্রী শিরিন মাজারি অভিযোগ করেছেন, তার মেয়ে ও জামাতাকে নিজেদের আইনজীবী নিয়োগ করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ আইনি নথিপত্রও তাদের সরবরাহ করা হয়নি।
এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি সরকারি কৌঁসুলি।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গত ২৩ জানুয়ারি ইমান মাজারি ও ছাট্টাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন একটি সেশন আদালত প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্টের অধীনে তাদের প্রত্যেককে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট ওই সাজা স্থগিত করেন।
কিন্তু একই দিন নিরাপত্তা লঙ্ঘনের মামলায় পুলিশ তাদের আবার গ্রেফতার করে। ইমান মাজারির মা জানিয়েছেন, নতুন এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন তারা।
সূত্র: রয়টার্স

