spot_img

মারা গেছেন ‘স্টার ট্রেক’ ও ‘এক্স-মেন’ তারকা প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট

অবশ্যই পরুন

হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট মারা গেছেন। শেক্সপিয়রের নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা এই ব্রিটিশ অভিনেতা ‘স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন’ সিরিজে ক্যাপ্টেন জ্যাঁ-লুক পিকার্ড এবং ‘এক্স-মেন’ চলচ্চিত্রে টেলিপ্যাথিক ক্ষমতাসম্পন্ন প্রফেসর চার্লস জেভিয়ার চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুর সময় পাশে ছিলেন তার স্ত্রী সানি ওজেল। অ্যালঝেইমারস ডিজিজ ও লুই বডি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর স্বল্প সময়ের অসুস্থতার মধ্য দিয়ে তার মৃত্যু হয়।

১৯৪০ সালের ১৩ জুলাই ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের মিরফিল্ড শহরে জন্ম প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের। দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা তার শৈশব ছিল নানা প্রতিকূলতায় ভরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তার বাবা মদ্যপ হয়ে পড়েন এবং পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেসজনিত সমস্যায় ভুগতেন বলে জানিয়েছিলেন স্টুয়ার্ট। মায়ের ওপর বাবার শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। এমনকি মাকে রক্ষা করতে বাবা-মায়ের মাঝখানে দাঁড়ানোর স্মৃতিও পরে তুলে ধরেছিলেন এই অভিনেতা।

ছোটবেলায় অভিনয়ই হয়ে ওঠে তার আশ্রয়। ১২ বছর বয়সে এক শিক্ষকের কাছ থেকে শেক্সপিয়রের নাটক ‘দ্য মার্চেন্ট অব ভেনিস’ সম্পর্কে জানার পর অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। স্টুয়ার্টের ভাষায়, অভিনয় তাকে নিরাপদ আশ্রয়ের অনুভূতি দিত। ১৮ বছর বয়সে অভিনয়জগতে পা রাখেন তিনি। ষাটের দশক থেকে রয়্যাল শেক্সপিয়ার কোম্পানির সদস্য হিসেবে মঞ্চে অভিনয় করে প্রশংসা অর্জন করেন।

তবে দীর্ঘদিনের মঞ্চাভিনেতা স্টুয়ার্টের পরিচিতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে টেলিভিশন সিরিজ ‘স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন’-এর মাধ্যমে। ৪৭ বছর বয়সে ১৯৮৭ সালে সিরিজটিতে ক্যাপ্টেন জ্যাঁ-লুক পিকার্ড চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পান তিনি। মূল ‘স্টার ট্রেক’ সিরিজের পরবর্তী কাহিনি নিয়ে নির্মিত এই ধারাবাহিকটি ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত প্রচারিত হয়। সাত মৌসুমে ১৭৬টি পর্বে অভিনয়ের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ‘স্টার ট্রেক’ সিরিজের একাধিক চলচ্চিত্রেও পিকার্ড চরিত্রে দেখা গেছে তাকে।

চরিত্রটি নিয়ে শুরুতে দ্বিধায় ছিলেন স্টুয়ার্ট। তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও আরেক খ্যাতিমান শেক্সপিয়ারীয় অভিনেতা ইয়ান ম্যাককেলেন তাকে ‘স্টার ট্রেক’-এ অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে মঞ্চনাটকেই মনোযোগী থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন স্টুয়ার্ট। এরপর চরিত্রটি হয়ে ওঠে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম পরিচয়। ২০২০ সালে ৭৯ বছর বয়সে শুরু হওয়া স্ট্রিমিং সিরিজ ‘স্টার ট্রেক: পিকার্ড’-এও একই চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

পিকার্ড চরিত্রের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে ২০২২ সালে গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টুয়ার্ট বলেছিলেন, সিরিজের সাতটি মৌসুম যত এগিয়েছে, জ্যাঁ-লুক পিকার্ড ও প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের মধ্যকার পার্থক্য ততই কমে এসেছে। একপর্যায়ে চরিত্রটি কোথায় শেষ হয়েছে আর নিজের সত্তা কোথায় শুরু হয়েছে, তা আলাদা করে বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। নিজের বিশ্বাস ও অনুভূতির অনেক কিছুই তিনি এই চরিত্রে ঢেলে দিয়েছিলেন বলেও জানান।

‘স্টার ট্রেক’-এর পাশাপাশি আরেকটি বড় ফ্র্যাঞ্চাইজির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন স্টুয়ার্ট। জনপ্রিয় মার্ভেল কমিকস চরিত্র অবলম্বনে নির্মিত ‘এক্স-মেন’ চলচ্চিত্রে হুইলচেয়ারে চলাচলকারী মিউট্যান্ট ও টেলিপ্যাথিক ক্ষমতার অধিকারী প্রফেসর চার্লস জেভিয়ারের ভূমিকায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েও প্রথমে রাজি হননি তিনি। পরে নির্মাতাদের অনুরোধে চরিত্রটি গ্রহণ করেন। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ‘এক্স-মেন’ চলচ্চিত্রের পর সিরিজটির আরও কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। এসব চলচ্চিত্রে ম্যাগনেটো চরিত্রে অভিনয় করা ইয়ান ম্যাককেলেনের সঙ্গেও পর্দা ভাগ করেছেন স্টুয়ার্ট।

এ ছাড়া ২০২২ সালের মার্ভেল চলচ্চিত্র ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অব ম্যাডনেস’-এও দেখা গেছে তাকে। সর্বশেষ বহুল প্রতীক্ষিত ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়েও অংশ নিয়েছেন স্টুয়ার্ট। চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে সিনেমাটির। তার মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে মার্ভেল স্টুডিওস। প্রতিষ্ঠানটি তাকে ‘অনন্য প্রতিভা, উদার সহযোগী ও প্রকৃত ভদ্রলোক’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

‘স্টার ট্রেক’-এর ক্যাপ্টেন পিকার্ড চরিত্রটি মূল সিরিজের ক্যাপ্টেন জেমস টি কার্কের চেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্যে নির্মিত হয়েছিল। উইলিয়াম শ্যাটনার অভিনীত কার্ক ছিলেন অনেকটা দুঃসাহসী অভিযাত্রীর মতো। বিপরীতে পিকার্ডকে দেখানো হয় বেশি চিন্তাশীল, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও কর্তৃত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে। তবে সিরিজের প্রথম দিকে সহশিল্পীদের সঙ্গে কিছুটা কঠোর আচরণের কথা নিজেই স্বীকার করেছিলেন স্টুয়ার্ট।

২০২৩ সালে নিউ ইয়র্কারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সিরিজের শুরুর দিকে সহশিল্পীদের নিয়ে একটি বৈঠক ডেকে সেটে যথেষ্ট শৃঙ্খলা বজায় না রাখার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তখন একজন সহশিল্পী তাকে বলেছিলেন, কাজের পাশাপাশি আনন্দ করাও জরুরি। কিন্তু স্টুয়ার্ট জবাবে বলেছিলেন, ‘আমরা এখানে আনন্দ করতে আসিনি।’ সহশিল্পীরা তাকে বিষয়টি কখনো ভুলতে দেননি বলেও মজা করে জানিয়েছিলেন তিনি। তাদের কাছ থেকেই পরে আরও স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত হতে শিখেছেন বলে স্বীকার করেন অভিনেতা।

সিরিজের প্রথম দুই মৌসুমে নিজের অভিনয় নিয়েও পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিলেন না স্টুয়ার্ট। তার মতে, শুরুতে পিকার্ড চরিত্রটি ছিল অনেক বেশি কর্তৃত্বপূর্ণ, কিন্তু তাতে ঘনিষ্ঠতা ও অন্যান্য মানবিক বৈশিষ্ট্যের ঘাটতি ছিল। পরবর্তী মৌসুমগুলোতে চরিত্রটির উপস্থাপন ও নিজের অভিনয় আরও উন্নত হয়েছে বলে মনে করতেন তিনি।

২০১০ সালে নাট্যকলায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাকিংহাম প্যালেসে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছ থেকে নাইট উপাধি গ্রহণ করেন প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। এরপর থেকে তিনি ‘স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট’ নামে পরিচিত হন। সে সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ব্রিটিশ অভিনেতা লরেন্স অলিভিয়ের, জন গিলগুড ও অ্যালেক গিনেস ছিলেন তার আদর্শ। তাদের মতো নাইট উপাধি পাওয়া শিল্পীদের কাতারে নিজের স্থান পাওয়াকে পেশাগত জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

ব্যক্তিজীবনে তিনবার বিয়ে করেছিলেন স্টুয়ার্ট। তার দুই সন্তান রয়েছে। ২০১৩ সালে তিনি বিয়ে করেন মার্কিন সংগীতশিল্পী সানি ওজেলকে। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত এই স্ত্রীই তার পাশে ছিলেন।

সর্বশেষ সংবাদ

১৫ মিনিটে রোনালদোর হ্যাটট্রিকে বিধ্বস্ত প্রতিপক্ষ

পেশাদার ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় ১০০০ গোল করার নতুন লক্ষ্য স্থির করেছিলেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। মাঝে গড়পড়তা পারফরম্যান্স ও...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ