মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ পাওয়ার ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। রোববার (২৫ অক্টোবর) সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা।
এদিকে, ইরানে সম্ভাব্য হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে পেতে চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে যাওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা হবে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান। এর আগে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ও রাডারের মতো যেসব সামরিক স্থাপনায় দ্রুত হামলা চালিয়ে সেগুলো পুনর্গঠন করা সম্ভব, সেসব লক্ষ্যবস্তুর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আগের হামলার চেয়ে এবারের অভিযান আরও ব্যাপক হতে পারে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে, এই অভিযানে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ দিচ্ছে দেশটি।
তবে ট্রাম্পসহ মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরায়েলকে আপাতত হামলা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থান বজায় রাখতে পারে ওয়াশিংটন।
ওই সূত্রের ভাষ্য, ‘পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। এখন ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষা। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও তা হতে পারে।’
সিএনএনকে আরও দুইটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী: উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
সূত্রগুলো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাসদস্য ও স্থাপনাগুলোর ওপর তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলা হতে পারে। এ আশঙ্কায় অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে আরও কর্মী সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত এক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও হুতিরা আগাম হামলা চালিয়ে মার্কিন বা ইসরায়েলি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করবে, এমন সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সিএনএনকে পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘প্রতিরক্ষা দফতর একটি পরিকল্পনাকারী সংস্থা। প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পগুলো তৈরি করা এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করাই এর দায়িত্ব।’

