spot_img

ইসলামসম্মত ‘রুকইয়া’র শর্ত ও পদ্ধতি

অবশ্যই পরুন

রুকইয়া শব্দের আভিধানিক অর্থ উঁচু হওয়া, ঊর্ধ্বে ওঠা। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়, কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন জিকির-দোয়ার মাধ্যমে রোগের চিকিত্সা করাকে রুকইয়া বলা হয়। যেহেতু এটি চিকিত্সার অন্তর্ভুক্ত, তাই ইসলামী শরিয়ত এতে ইজতিহাদ ও অভিজ্ঞতার সুযোগ রেখেছে। এ বিষয়ে নবী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘রুকইয়ায় কোনো অসুবিধা নেই, যতক্ষণ তাতে শিরক না থাকে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৮৮৬)

ইসলামী শরিয়ত রুকইয়ার জন্য এমন কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছে, যা একে বৈধ, উপকারী ও বরকতময় করে তোলে এবং তন্ত্র-মন্ত্র, প্রতারণা ও কুসংস্কার থেকে দূরে রাখে। প্রত্যেক রুকইয়াকারী ও যার ওপর রুকইয়া করা হয়—তাদের এসব শর্ত জানা উচিত, যাতে তারা নিজেদের বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে।

প্রথম শর্ত : রুকইয়াকারী ও যার ওপর রুকইয়া করা হচ্ছে—উভয়ের বিশ্বাস থাকতে হবে যে শিফা একমাত্র আল্লাহর হাতে; তাঁর কোনো শরিক নেই।

রুকইয়ায় আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে দোয়া বা সাহায্য চাওয়া যাবে না; যেমন ফেরেশতা, নেককার ব্যক্তি কিংবা জিনের কাছে কিছু চাওয়া। এর দলিল নবী (সা.)-এর বাণী—‘রুকইয়ায় কোনো অসুবিধা নেই, যতক্ষণ তাতে শিরক না থাকে।’

দ্বিতীয় শর্ত : রুকইয়া আরবি ভাষায় এবং (অন্যান্য ভাষায়) বোধগম্য বাক্যে হতে হবে। এ কথার ওপর ইজমা আছে।
তৃতীয় শর্ত : রুকইয়া হতে হবে পবিত্র কোরআন ও জিকিরের মাধ্যমে। তা রোগীর ওপর পড়া যেতে পারে, অথবা রোগী নিজেই নিজের ওপর পড়তে পারে। এছাড়া পানির ওপর পড়ে সেই পানি পান করা বা তা দিয়ে গোসল করা যেতে পারে। তেল ও মধুর ওপরও পড়া যেতে পারে।

সুস্থতা বিষয়ক কোরআনের আয়াত ও আল্লাহর সুন্দর নামগুলো জাফরান বা কোনো সুগন্ধি উপাদান দিয়ে পাত্রে লিখে, পরে জমজমের পানি দিয়ে তা মুছে সেই পানি রোগীকে পান করানোও বৈধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আমি কোরআনে এমন কিছু নাজিল করি, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত।’ (আল-ইসরা, আয়াত : ৮২)
মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা দুটি আরোগ্য গ্রহণ করো—মধু ও কোরআন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৪৫২)
চতুর্থ শর্ত : রুকইয়ায় কোনো হারাম বিষয় থাকা যাবে না; যেমন অভিশাপ দেওয়া বা গালাগালি করা, বিচ্ছেদ ঘটানো কিংবা কুফরিমূলক বাক্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার উম্মুস-সায়িব অথবা উম্মুল-মুসাইয়িব-এর কাছে প্রবেশ করলেন। তিনি জ্বরে কাঁপছিলেন। নবী (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, হে উম্মুস-সায়িব অথবা হে উম্মুল-মুসাইয়িব, তোমার কী হয়েছে?
তিনি বললেন, ‘জ্বর। আল্লাহ এতে বরকত না দিন!’

তখন নবী (সা.) বললেন, জ্বরকে গালি দিয়ো না। কারণ, তা আদম-সন্তানের পাপগুলো দূর করে, যেমন কামারের হাপর লোহার ময়লা দূর করে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৭৫)

পঞ্চম শর্ত : রুকইয়া কোনো নেককার ও বুজুর্গ ব্যক্তি থেকে হতে হবে। কোনো কাফির বা জাদুকরের কাছ থেকে তা গ্রহণ করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ তো কেবল মুত্তাকিদের কাছ থেকেই কবুল করেন।’ (সুরা আল-মায়িদা, আয়াত : ২৭)
তবে একজন মুসলিম কোনো অমুসলিমের ওপর রুকইয়া করতে পারে। কারণ, সাহাবিরা এমন এক গোত্রপ্রধানের ওপর রুকইয়া করেছিলেন, যাকে বিচ্ছু দংশন করেছিল। লোকটি অমুসলিম ছিলেন। নবী (সা.) সাহাবিদের এ কাজকে অনুমোদন করেছিলেন।

রুকইয়া সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্য
ইমাম ইবনু আবদুল বার (রহ.) বলেন, আমি আলেমদের মধ্যে বদনজর, বিচ্ছুর দংশন এবং এ ধরনের অন্য বিষয়ের জন্য রুকইয়া বৈধ হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ দেখিনি—যদি রুকইয়া বৈধ পন্থায় করা হয়। (আল-ইস্তিজকার, ২৭/১৯)
ইবনুল হাজ্জ (রহ.) ইমাম কুরতুবি (রহ.)-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘এটি বেশির ভাগ আলেম ও ইমামদের মত—ওষুধ গ্রহণ, রুকইয়া করানো এবং ওষুধ পান করা বৈধ।’ (আল-মাদখাল, ৪/১২০)
ইমাম ইবনু হাজার (রহ.) বলেন, ‘আলেমরা তিনটি শর্ত একত্রে পূরণ হলে রুকইয়া বৈধ হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন—

১. রুকইয়া আল্লাহর কালাম অথবা তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে হতে হবে।
২. তা আরবি ভাষায় হতে হবে, অথবা অন্য কোনো ভাষায় হলে তার অর্থ জানা থাকতে হবে।
৩. এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে রুকইয়া নিজে নিজে প্রভাব বিস্তার করে না; বরং প্রভাব ও শিফা দান করেন আল্লাহ তাআলা। (ফাতহুল বারি, ১০/১৯৫)

সর্বশেষ সংবাদ

পারস্য উপসাগরে মার্কিন জাহাজ এলেই হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

পারস্য উপসাগর ও ইরানের জলসীমার কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ভিড়লেই তা লক্ষ্য করে জোরালো হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান। বিপরীতে,...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ