উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো চীন সফর করেছেন বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক বেনামি সরকারি সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একটি নতুন সেতু পার হয়ে চীনের সীমান্তবর্তী শহর ডানডংয়ে পৌছান কিম।
তবে কিমের এই সফরের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এবং আন্তঃকোরীয় বিষয়াদি পরিচালনাকারী একীকরণ মন্ত্রণালয়ও ইয়োনহাপের প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। উত্তর কোরিয়া ও চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে জানা যায়, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিলম্বের পর চলতি মাসের শুরুর দিকে চালু হওয়া নতুন ইয়ালু নদী সেতু ব্যবহার করে ডানডংয়ে প্রবেশ করেন কিম।
সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা পাওয়ার আশায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন যুদ্ধে সমর্থন দিয়ে আসছে পিয়ংইয়ং। এ লক্ষ্যে গত কয়েক বছর ধরে রাশিয়ায় হাজার হাজার সৈন্য ও প্রচলিত অস্ত্র পাঠিয়েছে উত্তর কোরিয়া। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর পর এবার পিয়ংইয়ংয়ের দীর্ঘদিনের মিত্র ও অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছেন কিম।
এর আগে, গত জুনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পিয়ংইয়ং সফর করেন। ওই সফরে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে বাণিজ্য, কৃষি, নির্মাণ ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে বেইজিংয়ের আগ্রহের কথা জানান শি। অন্যদিকে, চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে শীর্ষ পর্যায়ের কৌশলগত ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচনা করেন কিম।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেইজিং সফর করেছিলেন কিম জং উন। ওই সফরে তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে একটি সামরিক কুচকাওয়াজও পরিদর্শন করেন তিনি।
তবে, ২৪ অক্টোবরের কথিত সফর সম্পর্কে উত্তর কোরিয়া বা চীনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।

