spot_img

চীনের ওপর নির্ভরশীলতা ইউরোপের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: তাইওয়ান

অবশ্যই পরুন

তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং সতর্ক করে বলেছেন, চীনা সরবরাহকারীদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পোল্যান্ডের ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। খবর: রয়টার্সের

এর দুই দিন পর বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে শুরু হবে ইইউর শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনের শুরুতেই চীনের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করবেন জোটের নেতারা। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে দেশটির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চায় ইইউ।

ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে লিন চিয়া-লুং বলেন, ‘চীনের কর্তৃত্ববাদী আদর্শ ইউরোপের গণতন্ত্রের সঙ্গে মৌলিকভাবেই সাংঘর্ষিক। তাই চীনের ওপর নির্ভরশীলতা শুধু অর্থনৈতিক ঝুঁকি নয়। এটি ইউরোপের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্যও হুমকি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত একটি ইউরোপ হবে এমন এক ইউরোপ, যে নিজের স্বাধীনতার একটি অংশ অন্যের হাতে তুলে দিয়েছে।’ এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইমেইলে যোগাযোগ করা হলেও ওয়ারশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

তাইওয়ানের কর্মকর্তারা বিদেশ সফরে গেলে চীন নিয়মিত এর প্রতিবাদ জানায়। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকেও আলোচনায় বসতে রাজি নয় বেইজিং। চীনের দাবি, লাই একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী। তবে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য ও সম্পর্ক বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। লিন বলেন, তাইওয়ানের সঙ্গে বাণিজ্য ইউরোপের জন্য লাভজনক হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘তাইওয়ান ও ইউরোপ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। এগুলো হলো গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন।’ লিন আরো বলেন, ‘তাইওয়ানের মডেল সিলিকন ভ্যালিতে উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির বিকাশে সহায়তা করেছে। ইউরোপের ক্ষেত্রেও এটি একই ভূমিকা রাখতে পারে।’

চীনের আপত্তির কারণে অতীতে তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইউরোপে খুব কমই সফর করতেন। তবে দুই বছরের বেশি সময় আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর লিন কয়েকবার ইউরোপ সফর করেছেন। এসব সফরের মধ্যে পোল্যান্ড সফরও রয়েছে।

ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছে তাইওয়ান। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর থেকে এ উদ্যোগ আরও জোরালো হয়েছে। চীনের সঙ্গে ইউরোপেরও বেশ কিছু বিষয়ে বিরোধ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ঘাটতি এবং রাশিয়াকে চীনের সহায়তা নিয়ে ইউরোপের উদ্বেগ।

পোল্যান্ডসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। তবে তাইওয়ানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার বেইজিংয়ের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।

তাইওয়ানের বক্তব্য, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমান মর্যাদায় সম্পর্ক গড়ে তোলার অধিকার তাদের রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

সারের ডিলারে অনিয়মের অভিযোগ মিললে ৩ মাসের মধ্যে ডিলারশিপ বাতিল: প্রতিমন্ত্রী

সারের ডিলার নিয়োগে কোনো অভিযোগ থাকলে তিন মাসের মধ্যে ডিলার বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ