যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে গুলি করে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। সাধারণ মানুষও পর্দায় এ দৃশ্য সরাসরি দেখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ‘রিয়াল আমেরিকাস ভয়েস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন পিট হেগসেথ।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জন নিরস্ত্র মার্কিন সেনাকে গুলি করে হত্যার দায়ে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। এ ঘটনায় আহত হয়েছিলেন আরও অনেকে।
হেগসেথ বলেন, সাধারণ মানুষ নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সরাসরি দেখতে পারবেন। তাঁর ভাষ্য, এমন কর্মকাণ্ডের পরিণতি কতটা ভয়াবহ, তা মানুষের বোঝা উচিত। একদল সেনা ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবেন বলেও জানান তিনি।
পেন্টাগনের মুখপাত্র সিন পারনেল জানান, ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুপারিশ করেছিলেন হেগসেথ নিজেই। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই সুপারিশ অনুমোদন করেন।
সাবেক এই সেনাসদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে ট্রাম্পের সমর্থন রয়েছে কি না, তা জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বিবিসি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুডে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা রয়েছে। ছয় দশকের বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কোনো সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা হতে যাচ্ছে এটি। একইসঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো মার্কিন সেনাসদস্যকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রথম ঘটনা হবে এটি।
নিদাল হাসান মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুডে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা ও টিকা নেওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ নিরস্ত্র সেনাদের ওপর তিনি গুলি চালান।
২০১৩ সালে সামরিক আদালতে তাঁর বিচার হয়। আদালতে নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইলেও নিদাল দাবি করেন, আফগানিস্তানের মুসলিম ও তালেবানদের সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে তিনি ওই হামলা চালিয়েছিলেন।

