ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে ইইউ-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ক, স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ, শ্রম অধিকার এবং সার্কুলার ইনোভেশন বা বৃত্তাকার উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ স্থিতিশীল ও সুষ্ঠু বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে। একই সঙ্গে সামাজিক ও পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে চলা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগবান্ধব ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়।
ইইউ-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে যায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ফলে ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই খাতের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বৈঠকে ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও ইইউর অবস্থান তুলে ধরা হয়। ইইউর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement) সম্পাদনের মতো অনুকূল পরিস্থিতি বিদ্যমান কি না, তা খতিয়ে দেখতে তারা প্রস্তুত।
এ সময় বাংলাদেশের অগ্রগতির গতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি, দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্কের আগামী দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে আসন্ন ‘ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’-এর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। এই ফোরামকে দুই পক্ষের বাণিজ্যিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

