উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন নিয়ে ‘নতুন তথ্যের’ কথা উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেছেন, তাদের প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে রাশিয়ায় মোতায়েনের জন্য বাছাই করা হচ্ছে। ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তার জন্য আনুমানিক ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার সেনা পাঠিয়েছে। তাদের বেশিরভাগকে ইউক্রেনীয় বাহিনীর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন। রাশিয়া প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো টেলিগ্রামে জানান, একটি আবাসিক ভবনের আঙিনায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে এবং শহরের অন্য একটি এলাকায় একটি অনাবাসিক ভবনে আগুন ধরে যায়। এর আগে সোমবার জেলেনস্কি বলেছিলেন, দেশজুড়ে রুশ ড্রোন হামলায় নয়জন নিহত এবং ৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কিয়েভের বাসিন্দারাও রয়েছেন।
ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার বলেছেন, ইউরোপে রাশিয়ার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ইউক্রেনকে সমর্থন করা থেকে দেশগুলোকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ সোমবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি কমিটিকে বলেন, রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত নাশকতা ক্রমেই আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠছে। তিনি জার্মানির একটি বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন পাওয়া এবং একটি রুশ নৌযানের ডেনমার্কের একটি হেলিকপ্টারের দিকে ফ্লেয়ার ছোড়ার মতো সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর উল্লেখ করেন। তার দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য ভয় সৃষ্টি করা এবং ইউক্রেনের প্রতি ঐক্যবদ্ধ সমর্থনে বিভাজন তৈরি করা।
বিদেশি সহায়তা পেতে বিলম্ব হওয়ায় ইউক্রেন কিছু ব্যয় প্রতিশ্রুতি—এর মধ্যে পুনর্গঠন প্রকল্পও রয়েছে—পিছিয়ে দেবে। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সোমবার বলেন, এসব প্রকল্প শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে, তবে আপাতত সব সম্পদ ‘জরুরি ক্ষেত্রগুলোতে’ ব্যবহার করতে হবে। রাশিয়ার সামরিক অভিযান ইউক্রেনের অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতি করেছে, যার ফলে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ধ্বংসযজ্ঞ এবং দেশটির অর্থায়নে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
পুতিন জার্মান খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মেট্রো এজির রাশিয়ায় থাকা সম্পদ সাময়িক প্রশাসনের অধীনে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার রুশ সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আদেশে এর কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও জার্মানির উত্তেজনার মধ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালের একটি ডিক্রির আওতায় “অবন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর” সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসার বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ফরাসি দুগ্ধ কোম্পানি ড্যানোন এবং ডেনমার্কের বিয়ার প্রস্তুতকারক কার্লসবার্গের রাশিয়ার ব্যবসাও স্থানীয় মালিকদের হাতে চলে যায়।
সোমবার রাশিয়ার একটি জেটচালিত ড্রোন পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে ইউক্রেনের একটি গ্রামে আঘাত হানে। এতে একটি সীমান্ত চেকপয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইউক্রেনের একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান। চেকপয়েন্টটির ধরন বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তিনি জানাননি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পোল্যান্ডের সীমান্তবর্তী ইউক্রেনীয় এলাকায় রাশিয়া একাধিক হামলা চালিয়েছে, যার নিন্দা করেছে ওয়ারশ এবং তার ইউরোপীয় মিত্ররা।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

