জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত বিধিমালায় ‘নৌকা’ প্রতীক স্থগিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য নির্বাচনি প্রতীকের সঙ্গে একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে ‘না’ প্রতীক রাখা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯৪ অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮-এর বিধি ৯-এর উপবিধি (১) সংশোধন করা হয়েছে।
সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে স্থগিত প্রতীক ছাড়া নির্ধারিত প্রতীকগুলোর মধ্য থেকে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে যেকোনো একটি বরাদ্দ দেওয়া যাবে।
ইসির নির্ধারিত প্রতীকের তালিকায় রয়েছে আনারস, আপেল, আম, আলমিরা, ঈগল, উট, গরুর গাড়ি, গাভী, গামছা, গোলাপ ফুল, ঘণ্টা, ঘুড়ি, ট্রাক, ট্রাক্টর, ডাব, বই, বক, বটগাছ, বাইসাইকেল, বাঘ, রকেট, রিকশা, রেল ইঞ্জিন, লাঙল, লিচু, শাপলা কলি, উদীয়মান সূর্য, একতারা, কবুতর, কম্পিউটার, কলম, কলস, কাঁচি, কাঁঠাল, কাপ-পিরিচ, কাস্তে, কুড়াল, ঘোড়া, চশমা, চাকা, চাবি, চিংড়ি, ছাতা ও জগ।
এ ছাড়া জাহাজ, টর্চলাইট, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেবিল ল্যাম্প, টেলিফোন, টেলিভিশন, তালা, দাঁড়িপাল্লা, ধানের শীষ, নোঙর, পাগড়ি, পালকি, প্রজাপতি, ফুটবল, ফুলকপি, বালতি, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব, মই, মগ, ময়ূর, মশাল, মাইক, মাছ, মোটরগাড়ি, মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন, মোরগ, সিংহ, সূর্যমুখী ফুল, সেলাই মেশিন, সোনালী আঁশ, হরিণ, হাঁস, হাত, হাতঘড়ি, হাতি, হাতুড়ি, হারিকেন, হেলিকপ্টার, হ্যান্ডশেক ও ‘না’ প্রতীক রয়েছে তালিকায়।
তালিকায় ‘নৌকা’ প্রতীকের পাশে স্পষ্টভাবে ‘স্থগিত’ উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামায় কিছু তথ্য দেওয়া ঐচ্ছিক
সংশোধিত বিধিমালায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা দাখিলের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
হলফনামার সংযুক্তি-১-এর ক্রমিক নম্বর ১০-এ নতুন বিশেষ দ্রষ্টব্য যুক্ত করে বলা হয়েছে, প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য দেওয়া ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হবে।
অর্থাৎ, প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়কর রিটার্নসংক্রান্ত তথ্য হলফনামায় না দিলেও হবে। আগে এসব তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল।
এ ছাড়া সংযুক্তি-১-এর ক্রমিক নম্বর ৩(খ)-এর বিশেষ দ্রষ্টব্যেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের ‘সংযুক্ত করিতে হইবে’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘দাখিল ঐচ্ছিক মর্মে বিবেচিত হইবে’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ৩(গ)-তে ‘অভিযুক্ত’ শব্দটির ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত বলতে এমন আসামিকে বোঝাবে, যার বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ বা চার্জ গঠন করেছেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি জামিনে মুক্ত থাকলে উপযুক্ত আদালত থেকে জামিন পাওয়ার সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করার যে বিধান ছিল, সংশোধনের মাধ্যমে সেখানে শিথিলতা আনা হয়েছে।
কারাগারে থাকা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামাসহ প্রয়োজনীয় দলিল ও কাগজপত্র জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সত্যায়িত করার বিধানও রাখা হয়েছে।
নির্বাচনি ব্যাংক হিসাবেও পরিবর্তন
সংশোধনীতে তফসিল-১-এর ফরম-১-এর তৃতীয় অংশে থাকা ‘মনোনীত প্রার্থী কর্তৃক ঘোষণা’র ৪ নম্বর অনুচ্ছেদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এতে ‘নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর’ শব্দগুলোর পর ‘এবং প্রার্থী অথবা প্রার্থীর নিয়োজিত নির্বাচনি এজেন্টের অ্যাকাউন্ট নম্বর’ শব্দগুলো যুক্ত করা হয়েছে।
সংশোধিত এসব বিধান এখন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ও নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় প্রযোজ্য হবে।

