ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো ‘অনুশোচনা’ নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধ আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে, তবুও নিজের সিদ্ধান্ত বদলাতেন না।
ফক্স নিউজের সঞ্চালক লরা ইনগ্রাহামের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বিবেচনায় নিয়ে ইরান যুদ্ধ নিয়ে তিনি অনুতপ্ত কি না। জবাবে তিনি বলেন, আমি ‘অনুশোচনা’ শব্দটিতে বিশ্বাস করি না।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ‘দ্য ইনগ্রাহাম অ্যাঙ্গেল’ অনুষ্ঠানে প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে যদি আবারও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, আমি ঠিক একই কাজ করবো, যেটা করেছি।’
যুদ্ধের কারণে তার কিছু সমর্থক হতাশ বা মনোবল হারিয়েছেন, এমন বক্তব্যও নাকচ করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমি মনে করি না তারা হতাশ। বরং তারা গর্বিত যে, আমি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দিচ্ছি না।
ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হবে। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনের পরই এটি শেষ হবে।
এর আগে, বুধবারও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সে সময় তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে তেহরান।
এদিকে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, পাল্টা হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা দুর্বল করা ছিল এই যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং দেশটির কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই।

