মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ‘পিছু হটতে বাধ্য’ করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, পারস্য উপসাগরের আঞ্চলিক জলসীমায় নতুন জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে একটি ‘স্পষ্ট সতর্কবার্তা’ পেয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত টাইমলাইনে দেওয়া এক পোস্টে রেজায়ি বলেন, পারস্য উপসাগরজুড়ে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও নৌ-অবরোধ চালানো হচ্ছে, তার জবাব দিতে ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, সমগ্র পারস্য উপসাগরজুড়ে সমুদ্র নিষিদ্ধ অঞ্চল সৃষ্টি করে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালানো হচ্ছে, তার জবাব অবরোধের পর্যায় পর্যন্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
রেজায়ির ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন রণতরী ও সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক ও অপারেশনাল অবস্থানও নতুন করে পুনর্বিবেচনা ও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে রেজায়ি দাবি করেন, ইরানের একটি নতুন জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন একটি যুদ্ধজাহাজকে সংঘর্ষপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে বাধ্য করেছে।
তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো আমরা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর দিয়ে আমাদের জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছি।
রেজায়ির দাবি, ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি দ্রুত এলাকা ছেড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল এবং এটি ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন।
ইরানের এই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, এমনকি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষেও ঘটনাটি পুরোপুরি গোপন রাখা সম্ভব হয়নি।
রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অর্থনৈতিক চাপ ও নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পারস্য উপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় সামুদ্রিক নিষিদ্ধ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে ইরান।
তার ভাষায়, অর্থনৈতিক যুদ্ধের জবাব দেওয়া হবে পারস্য উপসাগরজুড়ে অবরোধের সীমারেখা পর্যন্ত একটি সামুদ্রিক নিষিদ্ধ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
ইরানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন পারস্য উপসাগরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রেজায়ির মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত মিলছে, নৌ-অবরোধ বা সামুদ্রিক চাপ বাড়ানো হলে ইরানও তার সামরিক প্রতিক্রিয়ার পরিধি আরও বিস্তৃত করার কথা বিবেচনা করছে।
তবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে সরে যেতে বাধ্য করার দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা তথ্য এই প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।

