দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে অনেক স্বামী-স্ত্রীকে দেখতে অনেকটা একই মতো লাগে। শুধু পরিচিতজনেরাই নয়, অনেক সময় অপরিচিত মানুষও তাদের দেখে ভাই-বোন বা যমজ বলে ভুল করেন। কিন্তু কেন এমন হয়?
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এর পেছনে মানুষের অবচেতন আকর্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মানুষ সাধারণত পরিচিত বৈশিষ্ট্যের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই বেশি আকৃষ্ট হয়। নিজের চেহারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার কারণে নিজের মতো বৈশিষ্ট্য রয়েছে—এমন মানুষের প্রতিও ভালো লাগা তৈরি হতে পারে।
২০১৩ সালের একটি গবেষণায় বিষয়টির প্রমাণও পাওয়া যায়। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের তাদের সঙ্গীর মুখের পরিবর্তিত ছবি দেখানো হয়। কিছু ছবিতে অন্য মানুষের বৈশিষ্ট্য এবং কিছু ছবিতে অংশগ্রহণকারীর নিজের মুখের বৈশিষ্ট্য যোগ করা হয়েছিল। নারী ও পুরুষ—উভয়েই নিজেদের বৈশিষ্ট্য থাকা ছবিকে তুলনামূলকভাবে বেশি আকর্ষণীয় হিসেবে মূল্যায়ন করেন।
শুধু নিজের চেহারার সঙ্গে মিল নয়, বাবা-মায়ের চেহারার বৈশিষ্ট্যও অবচেতন আকর্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ছোটবেলা থেকে পরিচিত মুখের কিছু বৈশিষ্ট্য মানুষের কাছে স্বস্তিদায়ক ও আকর্ষণীয় মনে হতে পারে।
আরেকটি কারণ হতে পারে জিনগত ও সামাজিক মিল। গবেষণায় দেখা গেছে, স্বামী-স্ত্রীরা অনেক ক্ষেত্রে অপরিচিত মানুষের তুলনায় কিছুটা বেশি জিনগতভাবে একই রকম বৈশিষ্ট্য বহন করেন। একই ধরনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা পরিবেশগত পরিসরে থাকা মানুষদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি।
তবে দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার কারণেও স্বামী-স্ত্রীর চেহারায় মিল তৈরি হতে পারে। বছরের পর বছর একই ধরনের জীবনযাপন, পরিবেশ ও আবেগ ভাগ করে নেওয়ার ফলে মুখের অভিব্যক্তি ও বয়সের ছাপেও কিছুটা সাদৃশ্য তৈরি হতে পারে।
১৯৮৭ সালে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন বিবাহিত দম্পতিদের চেহারার মিল নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, বহু বছর একই ধরনের আবেগ প্রকাশ করতে করতে মুখে একই ধরনের ভাঁজ ও অভিব্যক্তি তৈরি হতে পারে।
তবে গবেষকদের মতে, শুধু চেহারার মিল থাকলেই যে দাম্পত্য সম্পর্ক সুখী হবে, এমন নয়। মানুষের আকর্ষণ অত্যন্ত জটিল—চেহারার মিল তার অনেকগুলোর মধ্যে একটি কারণ মাত্র।
তাই স্বামী-স্ত্রীকে দেখতে একই রকম লাগার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। পরিচিত মুখের প্রতি অবচেতন আকর্ষণ, জিনগত ও সামাজিক মিল এবং দীর্ঘদিনের অভিন্ন জীবনযাপন—সবকিছু মিলেই তাদের চেহারায় সাদৃশ্য তৈরি হতে পারে।
সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন

