spot_img

১০ টাকায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাবে পার্সেল, জানুন বিস্তারিত

অবশ্যই পরুন

পণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে দ্রুত ও নিরাপদে পাঠানো এখন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, অনলাইন বিক্রেতা কিংবা সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের তুলনামূলক বেশি মাশুল অনেকের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে সাশ্রয়ী মূল্যে পার্সেল পরিবহনের সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।

‘আজ বুকিং, আগামীকাল ঢাকা এবং ৪৮ ঘণ্টায় সারা বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ডাক বিভাগের স্পিডপোস্ট পার্সেল সেবা চালু রয়েছে। কম খরচে দ্রুত পণ্য পাঠানোর সুযোগ থাকায় সেবাটি ইতোমধ্যে গ্রাহকদের আগ্রহ তৈরি করেছে।

১০ টাকায় পার্সেল পাঠানোর সুযোগ

ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের যেকোনো প্রান্তে প্রথম ১ কেজি ওজনের পার্সেল পাঠাতে খরচ মাত্র ১০ টাকা। এরপর অতিরিক্ত প্রতি কেজির জন্য দিতে হবে আরও ৫ টাকা। একটি পার্সেলের সর্বোচ্চ ওজন হতে পারবে ৩০ কেজি।

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, স্পিডপোস্ট সেবা জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে। এই সেবায় গ্রাহকেরা শুকনা খাদ্যসামগ্রী, মধু, তেলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাঠাচ্ছেন।

তিনি বলেন, শুরুতে কয়েকটি বাইসাইকেল ও সাইকেল পাঠিয়ে সেবাটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। ঢাকা থেকে যেকোনো জেলা শহরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য আনা-নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে প্রান্তিক ও দূরবর্তী জেলা-উপজেলায় সময় কিছুটা বেশি লাগছে। এই সময় আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

পার্সেল ট্র্যাক করার সুবিধা

স্পিডপোস্টকে বিশেষ পার্সেল সেবা হিসেবে চালুর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিও যুক্ত করেছে ডাক বিভাগ। ফলে বুকিংয়ের পর গ্রাহক ট্র্যাকিং নম্বর ব্যবহার করে পার্সেলের অবস্থান জানতে পারবেন।

এ ছাড়া পার্সেল বুকিংয়ের আগেই সম্ভাব্য খরচ হিসাব করার জন্য অনলাইন ক্যালকুলেটরের সুবিধাও রয়েছে।

পার্সেল বুকিং করবেন যেভাবে

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের বিস্তৃত পোস্ট অফিস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্পিডপোস্টে পার্সেল পাঠানো যায়। এজন্য—

১. নিকটস্থ ডাকঘরে যেতে হবে।
২. ডাক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী পণ্যটি নিরাপদভাবে প্যাকেজিং করতে হবে।
৩. পার্সেলের ওপর প্রাপকের নাম, ঠিকানা ও গন্তব্যের তথ্য স্পষ্টভাবে লিখতে হবে।
৪. নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ করে বুকিং সম্পন্ন করতে হবে।
৫. বুকিংয়ের পর ট্র্যাকিং নম্বর-সংবলিত রসিদ সংগ্রহ করতে হবে।

এরপর ট্র্যাকিং নম্বর ব্যবহার করে পার্সেলের অবস্থান জানা যাবে।

কোথা থেকে স্পিডপোস্টে পার্সেল পাঠানো যাবে

ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সব জিপিও, প্রধান ডাকঘর, উপজেলা ডাকঘর, টাউন সাব-পোস্ট অফিস, সাব-পোস্ট অফিস, আরএমএস বুকিং কাউন্টার এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস থেকে স্পিডপোস্ট পার্সেল বুকিং করা যাবে।

রাজধানী ঢাকায় দ্রুত সেবা দিতে ঢাকা জিপিও ছাড়াও গুলশান, বনানী, মিরপুর, উত্তরা, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, ওয়ারীসহ ২১টি সাব-পোস্ট অফিসে সরাসরি পার্সেল ডেলিভারি নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

বর্তমানে প্রধান ডাকঘর ও উপজেলা ডাকঘরে পার্সেল ডেলিভারি করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দুই হাজারের বেশি পোস্ট অফিস থেকে ডেলিভারি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কত সময়ে পৌঁছাবে পার্সেল

ডাক বিভাগের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী স্পিডপোস্টে বুকিং করা পার্সেল—

*জেলা শহর থেকে ঢাকায়: সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা
*এক জেলা শহর থেকে অন্য জেলা শহরে: সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা
*প্রত্যন্ত বা দুর্গম এলাকায়: সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা

তবে ডাক গ্রহণ ও পরিবহনের সময়সূচির ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট ডাকঘর বুকিংয়ের সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারে।

এ ছাড়া প্রতি শুক্রবার স্পিডপোস্টের বুকিং ও ইস্যু কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

আরও তথ্যের জন্য

স্পিডপোস্ট পার্সেল সেবা, মাশুল, ট্র্যাকিং ও অন্যান্য তথ্য জানতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করা যাবে।

সর্বশেষ সংবাদ

বিএনপি বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে: মাহ্‌দী আমিন

বিএনপি ঐতিহাসিকভাবেই বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিএনপির...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ