দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্য মজুদ ও খাদ্যের গুণগত মানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। একইসঙ্গে দুর্যোগ বা সংকটকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত মজুদ রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) খাদ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সভায় খাদ্য সচিব আবু তাহের মোঃ মাসুদ রানা এবং অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় খাদ্য অধিদপ্তরের বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দুটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করা হয়।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। দেশের খাদ্য মজুদের পরিমাণ, মজুদ করা খাদ্যের গুণগত মান এবং দুর্যোগের সময় মানুষের কাছে যথাসময়ে খাদ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না—এসব বিষয় সবসময় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। নিরাপদ মজুদ ও খাদ্যের মান—দুটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য অধিদপ্তরে কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আফরোজা খানম বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কয়েকজনের অনিয়মের কারণে পুরো প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। এ জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
খাদ্য অধিদপ্তরের দীর্ঘদিনের অসম্পন্ন কাজগুলো গুরুত্ব ও প্রয়োজন বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করার নির্দেশ দেন খাদ্যমন্ত্রী। দেশের বিভিন্ন স্থানে খাদ্য গুদাম ও অবকাঠামোর দুরবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশনা দেন তিনি।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া খাদ্য গুদামের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, গুদামটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য খাদ্য গুদাম ও স্থাপনার অবস্থাও পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।
মাঠপর্যায়ের খাদ্য পরিদর্শক ও ওসি-এলএসডিসহ কর্মকর্তাদের কাজ নিয়মিত মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন খাদ্যমন্ত্রী। কর্মকর্তাদের কাজের মান, গুদামে খাদ্যের মজুদ ও গুণগত মান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের সন্তুষ্টিকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ভালো কাজের জন্য কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে আফরোজা খানম বলেন, সঠিক তদন্ত ও তথ্য-উপাত্ত যাচাই করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে শাস্তির শিকার না হন, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।
খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে নিয়মিত বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনের কথা জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরে এসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করবেন।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা তাকে পাশে পাবেন। তবে সবাইকে সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে খাদ্য অধিদপ্তরকে আরও দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।
সভায় খাদ্য সচিব আবু তাহের মোঃ মাসুদ রানা খাদ্য অধিদপ্তরের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

