ব্যবহারকারীদের তথ্য ও অ্যাকাউন্টের সুরক্ষা আরও নিখুঁত ও শক্তিশালী করতে সাইবার নিরাপত্তায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে জনপ্রিয় তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। নতুন এই সিকিউরিটি সিস্টেম কার্যকর হওয়ার ফলে হ্যাকারদের পক্ষে কারও অ্যাকাউন্ট কবজায় নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
মেটার মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্মটিতে আগে কেবল ৬ অঙ্কের ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ পিন ব্যবহারের সুযোগ ছিল। তবে নতুন ব্যবস্থায় এখন থেকে সংখ্যা (নাম্বার), অক্ষর (লেটার) ও বিশেষ চিহ্নের (স্পেশাল ক্যারেক্টার) সমন্বয়ে জটিল ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। ফলে সহজ কোনো সংখ্যা বা জন্মতারিখ দিয়ে পাসওয়ার্ড সেট করার দিন শেষ হচ্ছে, যা হ্যাকিং প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
ব্যবহারকারীরা এখন থেকে একটি একক অ্যাকাউন্টে একাধিক ‘পাস-কি’ যুক্ত করতে পারবেন। এর মধ্যে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট), ফেস আইডি কিংবা ডিভাইসের মূল স্ক্রিন লক ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ফিচারটি চালু করতে হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংস (Settings) > অ্যাকাউন্ট (Account) > পাস-কিস (Passkeys) অপশনে যেতে হবে।
অপরিচিত নম্বর চিহ্নিতকরণে সুবিধা:
অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন জরুরি:
নিরাপত্তা ব্যবস্থা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, ব্যবহারকারীর অসচেতনতা বিপদের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে লোভনীয় বা সন্দেহজনক কোনো লিংকে ক্লিক করলে মুহূর্তেই অ্যাকাউন্ট হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই নিয়মিত অ্যাকাউন্টে যুক্ত থাকা অন্য ডিভাইসগুলো (Link Devices) পর্যবেক্ষণ করা এবং অচেনা কোনো ডিভাইস যুক্ত থাকলে তা তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে ফেলা (Remove) উচিত। এ ছাড়া যেকোনো নতুন ডিভাইসে প্রবেশের ক্ষেত্রে কিউআর (QR) কোড স্ক্যান বা ‘লগ-ইন অ্যাপ্রুভাল’ চালু রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অ্যাাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:
টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন: অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তায় ফিচারটি সর্বদা সচল রাখা।
শক্তিশালী পাস-কি: ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আইডি বা জটিল পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে পাস-কি যুক্ত করা।
লিংকড ডিভাইস তদারকি: প্রতিনিয়ত কোন কোন ডিভাইসে অ্যাকাউন্ট লগ-ইন রয়েছে তা পরীক্ষা করা এবং সন্দেহজনক সংযোগ মুছে ফেলা।
সন্দেহজনক লিংক ও অনুমোদন: অপরিচিত বা প্রলোভনমূলক লিংকে ক্লিক না করা এবং অচেনা কোনো ডিভাইসের লগ-ইন অনুমোদন (Approve) না করা।

