চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চলতি সপ্তাহে দুই দেশ সফরে কিরগিজস্তান ও মিসর যাচ্ছেন। আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) বেইজিং এ সফরের ঘোষণা দিয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে পৌঁছাবেন শি জিনপিং। আগামী বৃহস্পতিবার সফর শেষ করে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার। চলতি বছরে এটি হবে তার দ্বিতীয় বিদেশ সফর। এর আগে জুনে তিনি রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়া গিয়েছিলেন।
কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির আমন্ত্রণে এ সফর করছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
বিশকেকে শি জিনপিং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনে অংশ নেবেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, চীন ও কিরগিজস্তান ‘ভালো প্রতিবেশী, পারস্পরিক আস্থার ভালো বন্ধু এবং অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা ভালো অংশীদার’।
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৩৪ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ সময়ে উভয় দেশ পরস্পরের প্রতি ‘আন্তরিকতা’ দেখিয়েছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার একটি ‘উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’ স্থাপন করেছে বলে মন্তব্য করেন লিন।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সম্পর্ক দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। শি জিনপিংয়ের আসন্ন সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উচ্চমানের উন্নয়ন আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও কিরগিজস্তানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের বেশি হয়েছে।
১০ বছর পর মিসর সফর
মিসর সফরটি হবেশি জিনপিংয়ের ১০ বছর পর দেশটিতে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। লিন জিয়ান বলেন, ৭০ বছর আগে আরব ও আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে মিসরই প্রথম চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি।
তিনি বলেন, চীন ও মিসরের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা গভীর হয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এবারের সফরে শি জিনপিং ও প্রেসিডেন্ট সিসি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, চীন মিসরের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব আরও এগিয়ে নিতে, একে অপরকে দৃঢ়ভাবে সহযোগিতা করতে এবং দুই দেশের আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ায় পারস্পরিক সমর্থন জোরদার করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা রয়েছে বেইজিংয়ের।
শি জিনপিংয়ের মিসর সফরের সময় দেশটিতে চীন ও মিসরের বিমানবাহিনীর যৌথ মহড়াও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‘সভ্যতার ঈগল’ নামের এই মহড়ায় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির বিমানবাহিনী জে-১৬ যুদ্ধবিমান, ওয়াইইউ-২০ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, কে-জে-৫০০ আকাশপথের আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ বিমান এবং জেড-২০ হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে।
চীনা সামরিক বাহিনীর এসব বিমান গত সপ্তাহে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মিসরে পৌঁছায়। শনিবার থেকে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হয়েছে। মিসরও এ মহড়ায় ফ্রান্সের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছে।

