তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ চালিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া ‘গ্লোবাল ফ্রিডম ফ্লোটিলা’র ঘটনায় নেতানিয়াহু ও এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চাওয়ার পর এরদোয়ানকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী স্বৈরশাসক’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে। বিবৃতিতে তুরস্কের আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা, দেশটির অভ্যন্তরীণ শাসন এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি আঙ্কারার সমর্থনের সমালোচনা করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, এরদোয়ান কুর্দিদের হত্যা করেছেন, হামাসের সদস্যদের আশ্রয় দিয়েছেন এবং সাইপ্রাসের একটি অংশ দখল করে রেখেছেন। একই সঙ্গে তার বিরোধিতা করা বহু সাংবাদিক ও রাজনীতিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আরো অভিযোগ করে, এখন এরদোয়ান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তার আগ্রাসন সিরিয়াতেও ছড়িয়ে দিতে চাইছেন। ইসরায়েল তা মেনে নেবে না বলে সতর্ক করা হয়।
তুরস্ক আন্তর্জাতিক আইনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিবৃতিতে এ উদ্যোগেরও সমালোচনা করা হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক কর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংস সামরিক অভিযান চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। তুরস্কের আইনমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, নেতানিয়াহু ও মোস্কোভিচকে আন্তর্জাতিকভাবে খুঁজে বের করা এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রয়োজনীয় নথি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, গত ১৪ জুলাই নেতানিয়াহু ও মোস্কোভিচের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তাদের আন্তর্জাতিকভাবে খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া শুরু করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও অনুরোধ করা হয়েছে। গুরলেক বলেন, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া ‘গ্লোবাল ফ্রিডম ফ্লোটিলা’র কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে। ইস্তাম্বুলের ফৌজদারি আদালতে চলা মামলায় নেতানিয়াহু ও মোস্কোভিচসহ মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৪ জুলাই নেতানিয়াহু ও মোস্কোভিচের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আবেদনও করা হয়েছে।
তুরস্কের আইনমন্ত্রী বলেন, গাজায় গণহত্যার নীতি বাস্তবায়নের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা কোনো ধরনের জবাবদিহির বাইরে থাকবেন- এমন ধারণা তুরস্ক মেনে নেবে না। গাজায় সংঘটিত অপরাধ ধামাচাপা দেওয়া বা এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দেওয়ারও সুযোগ দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান। এ ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের সব ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তুরস্কের অভিযোগপত্রে আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীদের আটক ও আটকে রাখার সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু গুরুতর অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা, ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করা, নির্যাতন, সম্পত্তির ক্ষতি করা, গুরুতর লুটপাট এবং পরিবহন যানবাহন ছিনতাই।

