spot_img

ফিফা সভাপতির প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার ইসরায়েলের

অবশ্যই পরুন

বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বেসরকারিকরণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিভিন্ন মহাদেশের ফুটবল ফেডারেশনের কড়া আপত্তির মুখে সে পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়ালেও নিজের পদ নড়বড়ে করে তোলেন তিনি। যা এই সুইস-ইতালীয় ফুটবল প্রশাসকের পুনরায় ফিফার সভাপতি পদে নির্বাচনের পরিকল্পনাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এইএফসি) যৌথ বিবৃতিতে ইনফান্তিনোর সমালোচনা করেন। একের পর এক প্রভাবশালী ফুটবল সংস্থার সমর্থন হারানোর মিছিলে এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইসরায়েল।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএ) সভাপতি মোশে জুয়ারেস সংস্থাটির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ফিফা প্রধানের দায়িত্বে ইনফান্তিনোকে পুনর্নির্বাচনের সমর্থন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের কথা জানান। ইসরায়েল ১৯৯৪ সাল থেকে উয়েফার সদস্য এবং জুয়ারেস সংস্থাটির নির্বাহী কমিটির সদস্য। ফলে তার নেতৃত্বাধীন আইএফএর এই সিদ্ধান্ত খুব একটা অপ্রত্যাশিত নয়।

ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনো দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইসরায়েলের ক্রীড়া সম্পর্ক উন্নয়নে নানা রাজনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। গত এপ্রিলে ফিফা কংগ্রেসে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিদলকে একমঞ্চে আনার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। এছাড়া আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে মুখোমুখি করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

এসব কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপে সৃষ্ট টানাপোড়েন এবং প্রত্যাশিত ফলাফলের অভাব এই বিরোধকে আরও উসকে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ফিফা ও উয়েফার বৈশ্বিক ফুটবল পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে ‘অভূতপূর্ব আস্থার সংকট’ তৈরি করেছে এবং দুই সংস্থার মধ্যে এই মতপার্থক্য গভীর ও নীতিগত।

চিঠিতে জুয়ারেস দাবি করেছেন, দুই সংস্থার মধ্যে এই মতপার্থক্য গভীর, মৌলিক ও নীতিগত এবং এটি বিশ্ব ফুটবলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ভবিষ্যৎ পথ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। আইএফএর বোর্ড সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন বলেও জানান জুয়ারেস, ‘আমাদের আগের সমর্থনের চিঠি প্রত্যাহার করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আন্তরিকভাবে আশা করি, সব পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ সংলাপ শেষ পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের জন্য একটি অভিন্ন, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দিকনির্দেশনা ফিরিয়ে আনবে।’

ইসরায়েলের আগে উয়েফার আরও কয়েকটি সদস্য দেশ—ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড ফিফা সভাপতির প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্পের সমালোচনার জেরে সম্প্রতি ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুরকে ছাঁটাই করার ঘটনাও ইনফান্তিনোর অবস্থানকে নড়বড়ে করে তুলেছে।

যদিও ইসরায়েলের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ফিফাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘ইনফান্তিনোকে সরানোর কথা ভাবাও হবে মারাত্মক ভুল।’ এ ছাড়া সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, লাতিন ফুটবল সংস্থা কনমেবল, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন সিএএফ এবং পৃথকভাবে বেশকিছু দেশ তাকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে।

পরিশেষে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় ইনফান্তিনোর অবস্থান ধরে রাখার এই লড়াইয়ে ইসরায়েলসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সমর্থন প্রত্যাহার এক বড় সতর্কবার্তা। আগামী নির্বাচন ও ফিফার বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে এই মেরুকরণ কেমন প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সর্বশেষ সংবাদ

এখন ইরানকে শক্তিশালী দেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে: আরাঘচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে আমূল বদলে দিয়েছে। তার দাবি, আরব দেশগুলো...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ