spot_img

নামাজে রাকাত-সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হলে যা করবেন

অবশ্যই পরুন

নামাজে একাগ্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক সময় অসতর্কতা, মনোযোগের ঘাটতি বা অন্য কোনো কারণে নামাজির মনে সন্দেহ তৈরি হয়।

তিনি কত রাকাত নামাজ পড়েছেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান। তিন রাকাত হয়েছে নাকি চার রাকাত, তা মনে না থাকলে কী করবেন—এ বিষয়ে ইসলামে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তুমি আল্লাহর ইবাদত করো এমনভাবে, যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে তিনি তোমাকে দেখছেন।

’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০)
নামাজের মধ্যে রাকাত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হলে প্রথমে নিজের স্মরণশক্তি দিয়ে চিন্তা করতে হবে। যদি কোনো একটি সংখ্যার প্রতি প্রবল ধারণা তৈরি হয়, তাহলে সেটির ওপর ভিত্তি করে নামাজ পূর্ণ করতে হবে। আর যদি কোনো দিকেই নিশ্চিত ধারণা না হয়, তাহলে কমসংখ্যাকে ধরে নামাজ শেষ করতে হবে এবং শেষে সাহু সিজদা করতে হবে। আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারও নামাজে সন্দেহ হলে এবং সে বুঝতে না পারে যে এক রাকাত পড়েছে নাকি দুই রাকাত, তাহলে সে এক রাকাত ধরে নেবে।

আর দুই না তিন রাকাত পড়েছে, তা বুঝতে না পারলে দুই রাকাত ধরে নামাজ পূর্ণ করবে এবং সালামের আগে দুটি সিজদা করবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৯৮)
বিভিন্ন অবস্থায় করণীয়

দুই রাকাতের নামাজে দুই না তিন রাকাত হয়েছে মনে হলে দুই রাকাত ধরে নামাজ পূর্ণ করতে হবে এবং সাহু সিজদা করতে হবে।
চার রাকাতের নামাজে তিন না চার রাকাত হয়েছে সন্দেহ হলে তিন রাকাত ধরে চতুর্থ রাকাত পূর্ণ করতে হবে এবং শেষে সাহু সিজদা করতে হবে।

যদি সন্দেহ বারবার না হয় এবং নামাজের ভেতরেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়, তাহলে প্রবল ধারণা অনুযায়ী আমল করতে হবে।
যদি কোনো ধারণাই প্রবল না হয়, তাহলে কম রাকাত ধরে নামাজ শেষ করতে হবে এবং সাহু সিজদা দিতে হবে।

নামাজ শেষ হওয়ার পর সন্দেহ হলে
নামাজ শেষ করার পর শুধু সন্দেহ তৈরি হলে সাধারণত সেই সন্দেহের ভিত্তিতে নামাজ আবার পড়ার প্রয়োজন নেই। তবে যদি নিশ্চিতভাবে মনে পড়ে যে কোনো রাকাত বাদ গেছে, তাহলে ছুটে যাওয়া রাকাত পূর্ণ করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সাহু সিজদা করতে হবে। আর যদি সালাম ফেরানোর পর এমন কোনো কাজ করা হয়ে যায়, যা নামাজের পরিপন্থী, তাহলে আবার নামাজ আদায় করতে হবে। যাদের প্রায়ই রাকাত নিয়ে সন্দেহ হয় এবং এটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, তারা নিজের প্রবল ধারণা অনুযায়ী আমল করবেন। আর যদি সব দিক সমান মনে হয়, তাহলে কম সংখ্যাকে ধরে নামাজ পূর্ণ করবেন এবং শেষে সাহু সিজদা করবেন।(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮৮৮)

ইসলাম নামাজকে শুধু কিছু আনুষ্ঠানিকতার সমষ্টি হিসেবে দেখেনি; বরং একে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার গভীর সম্পর্কের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই নামাজে মনোযোগী হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি অনিচ্ছাকৃত ভুল বা সন্দেহের ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্দেশনা মেনে চলাও জরুরি।

তথ্যসূত্র : আদ্দুররুল মুখতার, ২/৯৩-৯৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৩০, কিতাবুল আছল, ১/১৯৮, বাদায়েউস সানায়ে, ১/৪০৪, আল-বাহরুর রায়েক, ২/১১১।

সর্বশেষ সংবাদ

বাংলাদেশ ম্যাচ দিয়ে টেস্টে ফিরতে মরিয়া মিচেল স্টার্ক

অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক টেস্ট ক্রিকেটে নতুন এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজেই ভারতের কিংবদন্তি...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ