অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক টেস্ট ক্রিকেটে নতুন এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজেই ভারতের কিংবদন্তি কপিল দেবকে ছাড়িয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় আরও ওপরে উঠে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তার।
আগামী সপ্তাহে ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে অস্ট্রেলিয়া। লম্বা গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের সেরা দল নিয়েই মাঠে নামছে। যেখানে কামিন্স, স্টার্ক, বোল্যান্ড, হ্যাজেলউডরা রয়েছেন। বাঁহাতি পেসার বিরতির পর মাঠে ফেরার অপেক্ষায়। ৪৩৩ উইকেট নিয়ে স্টার্ক ২২ গজে ফেরার অপেক্ষায়।
সঙ্গে নতুন রেকর্ড অপেক্ষায় তিনি। কপিল দেবের ৪৩৪ উইকেট স্পর্শ করতে তার দরকার মাত্র একটি উইকেট। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার দ্রুতগতির বোলার ডেইল স্টেইনকে ছাড়িয়ে যেতে প্রয়োজন ৭ উইকেট। এতে টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি পেসারদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে উঠে আসবেন ৩৬ বছর বয়সী এই অজি তারকা।
গত বছর স্টার্ক যেভাবে পারফরম্যান্স করেছেন তাতে ৭ উইকেট অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। গত বছরে ১৭.৩২ গড়ে ৫৫টি টেস্ট উইকেট পেয়েছেন তিনি। তাতে ২০২৬ সালের অ্যালান বর্ডার মেডেলের অন্যতম দাবিদার তিনি। ২০২২ সালেও এই পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।
নতুন কুকাবুরা বল, ওবল সিম ডেলিভারি আর অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন, অতি গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অস্ত্রই স্টার্কের ধারাবাহিক বোলিংয়ের সাফল্যর রহস্য। তারপরও ৩৬ পেরোনো এই পেসার মনে করেন নিজের মানসিকতায় পরিবর্তন আনাতেই ২২ গজে এখনও দাপট দেখাতে পারছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে স্টার্ক বলেন, ‘আমার মতে আমি খারাপ বিষয়গুলো নিয়ে ছেড়ে দিতে শিখেছি। আপনি ঠিক ততটাই ভালো নন, যতটা আপনি বা অন্যরা ভাবেন। আবার আপনি ঠিক ততটা খারাপও নয়।’
স্টার্ক পরের কথায় যা বুঝিয়েছেন তা হলো, লড়াইটা নিজের সঙ্গে। নিজের সঙ্গে জিতলে প্রতিপক্ষকেও কাবু করা যায় সহজে, ‘এখনও ভুল হলে বিরক্ত হই। নিজের কাছে অভিযোগ করি। এমনকি গত গ্রীষ্মেও অ্যাশেজ শুরুর আগের দিন পর্যন্ত মনে হয়নি সব ঠিকঠাক হয়েছে। কিন্তু আমাদের দলে কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বে একটি বিষয় স্পষ্ট, ভালো দিন হোক বা খারাপ, ভালো ওভার বা বাজে স্পেল, যা হয়ে গেছে তা নিয়ে আর ভাবার কিছু নেই। সামনে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ মাঠে সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু বদলে দেওয়া সম্ভব নয়।’
স্টার্ক বরাবরই বিশ্বাস করেন, বয়স তার জন্য কোনো বাধা নয়। ৩৫ বছর পার হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তার চেয়ে বেশি টেস্ট উইকেট নিয়েছেন কেবল কিংবদন্তি গ্লেন ম্যাকগ্রা। গত অ্যাশেজ সিরিজেও ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বোলিং করে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
নিজের উন্নতি নিয়ে স্টার্ক বলেন, ‘যখন আপনার বয়স ৩৬ এবং ১৬ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন, তখন আশা করাই যায় যে কোনো না কোনো দিক থেকে উন্নতি করবেন। এতদিন টিকে থাকার কারণই হলো শেখা, নিজেকে বদলানো এবং আরও ভালো হওয়া। ওব্ল সিম, ধারাবাহিকতা এসব যোগ হয়েছে। আর এখন আমার মানসিকতাও অনেক পরিষ্কার।’
১০৫ টেস্ট খেলা স্টার্ক ৭ মাস পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে ফিরে যদি রেকর্ডবুকে নাম তুলতে পারেন তা হবে তার জন্য বিরাট অর্জন। কপিল দেব ও ডেইল স্টেইনকে ছাড়িয়ে যেতে পারলে তার সামনে কেবল থাকবে জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড, গ্লেন ম্যাকগ্রা ও কোর্টনি ওয়ালশ। এছাড়া স্টেইনকে ছাড়িয়ে যেতে পারলে সর্বকালের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটশিকারিদের শীর্ষ দশেও জায়গা করে নেবেন স্টার্ক।
রেকর্ড নিয়ে তার খুব একটা ভাবনা নেই। ২২ গজে কাটানো সময়টাকেই তিনি উপভোগ করতে চান দুহাত ভরে, ‘যেহেতু রেকর্ড কথা বলছে এর অর্থ আমি অনেক দিন ধরে খেলছি। ওই কিংবদন্তিদের সঙ্গে আমার নাম উচ্চারিত হওয়া অবশ্যই সম্মানের। তবে যত দিন খেলছি, এসব রেকর্ড নিয়ে খুব বেশি ভাবতে চাই না। খুব বেশি আগাম চিন্তা করারও প্রয়োজন নেই।’

