ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশকে শৈল্পিকভাবে উপস্থাপনের পর থেকেই প্রশংসায় ভাসছেন গায়ক সঞ্জয় দেব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তারকাদের সঙ্গে কোলাবরেশন করছেন তিনি। তবে গল্পের শুরু মসৃণ ছিল না। এক সময় বাসা ভারা ছিল না এই গায়কের কাছে।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব বলেন সঞ্জয়। সংগীতে এতদূর আসতে বাঁধা কিংবা কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়েছে কি না জানতে চাইলে মুখ খোলেন সঞ্জয়।
তিনি বলেন, ‘অবশ্যই হয়েছে। শুরুর দিকে তো মিউজিক প্রোডাকশন সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণাই ছিল না। খুবই খারাপ মিউজিক বানাতাম। বন্ধুরা বিরক্ত হতো, আম্মা–আব্বাও বলতেন, ‘এসব কী বানাচ্ছ?’ তবে উৎসাহও কিন্তু দিতেন। কিন্তু আমি সেসব নিয়ে কখনো ভাবিনি। কারণ, আমি শুধু ভালোবেসেই কাজটা করে গেছি।’
এরপর বলেন, ‘মিউজিক ছাড়া অন্য কোনো কিছুই আমাকে তেমন টানত না। গেম খেলতাম না, অন্য কিছু নিয়েও খুব একটা আগ্রহ ছিল না। তবে ফুটবলের শিল্প, কৌশল—এসব দেখতে ভালো লাগে। বিশেষ করে বিশ্বকাপ এলে সেই আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। শেষ বিশ্বকাপের প্রায় সব ম্যাচই দেখেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনে হয়েছে, আমার কাছে মিউজিকের চেয়ে বড় কিছু নেই। মিউজিকের জন্য জীবনে অনেক অদ্ভুত ও কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু কখনও মনে হয়নি, এই পথ ছেড়ে দেব। বরং বিশ্বাস করেছি, মিউজিকই এমন একটি ভাষা, যা দিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা যায়। আর নিজের কাজের মাধ্যমে কিছু রেখে যেতে পারাটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। এই মানসিকতা আমি পরিবার থেকেই পেয়েছি। মা–বাবা, দিদা, আর আমার দাদা—তাঁরা কখনো হার মানতে শেখেননি। সেই জেদ আর অধ্যবসায় আমাদের সবার রক্তেই আছে।’
সঞ্জয়ের কথায়, ‘ব্যর্থতার গল্পও কম নয়—সিলিকন ভ্যালি থেকে যখন লস অ্যাঞ্জেলেসে যাই, তখন বাসাভাড়া দেওয়ার মতো টাকাও ছিল না। মা–বাবাও সেটা জানতেন না। যে অ্যাপার্টমেন্টে শেষ পাঁচ বছর ছিলাম, সেখানে—ফ্লোরেই ঘুমাতাম। শুধু কয়েক শ ডলার বাঁচানোর জন্য, যাতে সেই টাকা দিয়ে মিউজিক করতে পারি। তখন নিজের বানানো মিউজিক বিটস ১০০ থেকে ১৫০ ডলারে বিক্রি করতাম। টিকে থাকার জন্য অনেক কিছুই করেছি। এখন ফিরে তাকালে মনে হয়, পুরো যাত্রাটাই ছিল অসাধারণ। তখন যেমন মিউজিককে ভালোবাসতাম, আজও ঠিক ততটাই ভালোবাসি।’
‘সির সির’ দিয়ে নোরা ফাতেহির সঙ্গে বিশ্বকাপের আসর মাতিয়েছিলেন সঞ্জয়। পরে প্রকাশ পায় তাদের আরও এক গান ‘চ্যাম্পিয়ান’। গানটির কথা সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন সঞ্জয়।

