রিয়াল মাদ্রিদে একের পর এক বড় ট্রান্সফার গুঞ্জনের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভবিষ্যৎ। ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত তারকা ডিওমান্দেকে দলে ভেড়ানোর দ্বারপ্রান্তে রয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। আর এই খবর প্রকাশের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভিনিসিয়ুসকে ঘিরে নানা জল্পনা।
এর অন্যতম কারণ, ডিওমান্দে ও ভিনিসিয়ুস—দুজনেরই এজেন্ট ফ্রেদেরিকো পেনা। ফলে অনেকের ধারণা, নতুন এই ট্রান্সফারের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের বিদায়ের পথ তৈরি হচ্ছে।
তবে স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক এএস জানিয়েছে, বাস্তবতা ঠিক উল্টো। ভিনিসিয়ুসের প্রথম পছন্দ রিয়াল মাদ্রিদেই থাকা এবং নতুন চুক্তিতে সই করা। একইভাবে ক্লাবেরও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করা।
বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র এক বছর বাকি। ফলে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর নজর এখন তার দিকে। চাইলে এই মৌসুমেই ট্রান্সফার হতে পারেন, আবার ২০২৭ সালে ফ্রি এজেন্ট হিসেবেও নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল ইতোমধ্যে ভিনিসিয়ুসকে দলে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। এর আগে লিভারপুলও ২০২৭ সালে তাকে ফ্রি ট্রান্সফারে দলে ভেড়ানোর আগ্রহ দেখিয়েছিল। তবে সব প্রস্তাবের মাঝেও রিয়ালেই ক্যারিয়ার চালিয়ে যেতে চান ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড।
ছুটি শেষে আগামী সপ্তাহে মাদ্রিদে ফিরে ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসবেন ভিনিসিয়ুস। নতুন কোচ হোসে মরিনহোর অধীনে নিজের ভূমিকা কী হবে, সেটি জানতে চান তিনি। পাশাপাশি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতনও নিশ্চিত করতে আগ্রহী।
মরিনহোও ভিনিসিয়ুসকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন। তার পরিকল্পনায় ডিওমান্দে, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুসকে নিয়ে গড়ে উঠতে পারে শক্তিশালী আক্রমণভাগ, যাদের পেছনে থাকবেন জুড বেলিংহ্যাম।
ক্লাব বিশ্বকাপের পর নতুন চুক্তি নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা অনেক দূর এগোলেও শেষ মুহূর্তে তা থেমে যায়। শুরুতে ভিনিসিয়ুসের আর্থিক দাবি ছিল অনেক বেশি। পরে তিনি সেই দাবি কমিয়ে আনেন। অন্যদিকে রিয়ালও নিজেদের প্রস্তাব বাড়ায়। দুই পক্ষের ব্যবধান অনেকটাই কমে এলেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হওয়ায় চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি।
কত বেতন চাইছেন ভিনিসিয়ুস?
বর্তমানে ভিনিসিয়ুস বছরে প্রায় ২০ মিলিয়ন ইউরো (নেট) বেতন দাবি করছেন। ২০২২ সালে করা তার আগের চুক্তি অনুযায়ী পাঁচ বছরে মোট ৭৫ মিলিয়ন ইউরো (নেট) পাওয়ার কথা ছিল। সেই চুক্তির শুরুতে তার বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ১০ মিলিয়ন ইউরো, যা ধাপে ধাপে বেড়ে চলতি মৌসুমে প্রায় ১৮ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। এছাড়া দ্য বেস্ট ফিফা মেন্স প্লেয়ার পুরস্কার জেতায় অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ইউরো বোনাসও পেয়েছেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাবের বিভিন্ন ট্রান্সফার পরিকল্পনায় নিজের গুরুত্ব কিছুটা কমে গেছে বলে মনে করছেন ভিনিসিয়ুস। বিশেষ করে হুলিয়ান আলভারেজ ও মাইকেল অলিসেকে নিয়ে আগ্রহ, এরপর বেলিংহ্যাম ও এমবাপ্পের আগমন তাকে এমন অনুভূতি দিয়েছে।
তবে মাঠের পারফরম্যান্সে তার গুরুত্ব এতটুকুও কমেনি। রিয়াল মাদ্রিদের সর্বশেষ দুটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান নায়ক। তাই ক্লাবও তাকে ভবিষ্যৎ প্রকল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই ধরে রাখতে চায়।

