মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে ইসরায়েলে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান মোতায়েন শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে অঞ্চলজুড়ে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন, ভ্রমণ সতর্কতা জোরদার এবং সামরিক পরিকল্পনায় পরিবর্তনের পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের নতুন প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
টানা আট রাত ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্তও উভয় পক্ষের মধ্যে সামরিক অভিযান চলেছে। এ সময় কুয়েতে সতর্কতামূলক সাইরেনও বাজানো হয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া সাম্প্রতিক হামলায় আরও কয়েক ডজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। সংঘাত পুনরায় শুরুর পর এটিই মার্কিন বাহিনীর প্রথম প্রাণহানির ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এসব হামলার জবাবে ইরানে টানা অষ্টম রাতের মতো সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে।
এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানির স্পাংডাহলেম বিমানঘাঁটি থেকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং যুক্তরাজ্য থেকে অত্যাধুনিক স্টেলথ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি কয়েক ডজন রিফুয়েলিং বিমানও ইসরায়েলে পৌঁছেছে। এসব বিমান ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করা এবং সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পেন্টাগন ভবিষ্যৎ অভিযানে ড্রোন ও অন্যান্য মানববিহীন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
যদিও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এখনই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধকে অনিবার্য বলতে নারাজ, তবে তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং যেকোনো সময় সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে।

