spot_img

নরওয়ের বিদায়ের পর হালান্ডের খোঁচা, ‘রেফারি বেশ ভালো খেলেছে’

অবশ্যই পরুন

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে নরওয়ে। মাঠের লড়াইয়ে এই রোমাঞ্চকর হারের পর ফুটবল ছাপিয়ে এখন আলোচনায় রেফারিং। নরওয়ের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ যাত্রা থমকে যাওয়ার পর ম্যাচ অফিশিয়ালদের তীব্র সমালোচনা ও বিদ্রূপ করেছেন দলটির তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড।

মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখে ইংল্যান্ড। থ্রি-লায়ন্সদের হয়ে জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। প্রথমার্ধে আন্দ্রিয়াস শেলডারুপের গোলে নরওয়ে এগিয়ে গেলেও পরে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় টমাস টুখেলের শিষ্যরা।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই বিখ্যাত ফুটবল সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেলিংহামের ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে একটি পোস্ট করেন। সেই পোস্টের নিচে মন্তব্য করতে গিয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন সাবেক নরওয়েজিয়ান ফুটবলার আলফ-ইঙ্গে হালান্ড। বিদ্রূপের সুরে তিনি লেখেন, ‘দারুণ খেলেছে বেলিংহাম, আর রেফারিও (বেশ ভালো খেলেছে)।’ বড় হালান্ডের এই এক লাইনের খোঁচা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

মূলত ম্যাচের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নরওয়ের বিপক্ষে যাওয়ায় মাঠের ভেতর ও বাইরে অসন্তোষ ছড়ায়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ইংল্যান্ড যখন সমতাসূচক গোলটি পায়, তার ঠিক আগে একটি গোল-কিক স্টেডিয়ামের ওপরের ক্যামেরার তারে লেগেছিল বলে দাবি করে নরওয়ে। তাদের মতে, তারে লেগে বলের গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় খেলা থামানো উচিত ছিল। তবে ফিফা প্রযুক্তির তথ্য বিশ্লেষণ করে এক বিবৃতিতে জানায়, ‘কানেক্টেড বল’ প্রযুক্তির সেন্সরে বাতাসে থাকা অবস্থায় বলের গতিবিধিতে কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি, অর্থাৎ তারে বল লাগার কোনো প্রমাণ নেই।

এরপর ম্যাচের ৫৫ মিনিটে দ্বিতীয় ধাক্কাটি খায় নরওয়ে। কর্নার থেকে তরবিয়র্ন হেগেমের করা গোলটি ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর বাতিল করে দেন রেফারি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিদের সিদ্ধান্ত ছিল, কর্নার নেওয়ার মুহূর্তে ইংলিশ ফুটবলার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করেছিলেন আর্লিং হালান্ড।

ম্যাচের প্রথমার্ধের ৩৬ মিনিটে হ্যারি কেইনের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে দুর্দান্ত এক বাঁ পায়ের শটে নরওয়েকে লিড এনে দিয়েছিলেন শেলডারুপ। তবে বিরতির ঠিক আগে অ্যান্থনি গর্ডনের পাস থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে সমতা ফেরান বেলিংহাম। এরপর অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটে মরগান রজার্সের দূরপাল্লার শট নরওয়েজিয়ান গোলরক্ষক ইয়র্ন নিল্যান্ড ঠিকঠাক গ্লাভসবন্দী করতে না পারলে, ফিরতি বলে আলতো টোকায় ইংল্যান্ডের জয়সূচক গোলটি করেন সেই বেলিংহামই।

অতিরিক্ত সময়ের মাঝপথে আর্লিং হালান্ডকে তুলে নেন নরওয়ে কোচ। এর ফলে জাতীয় দলের হয়ে ম্যানচেস্টার সিটি তারকার টানা ১৪টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করার অবিশ্বাস্য রেকর্ডটিরও সমাপ্তি ঘটে।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে নিজেদের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

উল্লেখ্য, ছেলের মতো আলফ-ইঙ্গে হালান্ড নিজেও একসময় পেশাদার ফুটবলার ছিলেন। ডিফেন্ডার হিসেবে ইংল্যান্ডের নটিংহাম ফরেস্ট, লিডস ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলা এই ফুটবলার ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে নরওয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

সর্বশেষ সংবাদ

অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে আইএমএফের সঙ্গে নতুন প্রোগ্রাম হবে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জনস্বার্থ ও দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে আইএমএফের সঙ্গে নতুন প্রোগ্রাম হবে। দেশের...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ