যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির পরবর্তী নেতা ও দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে গেছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। দলের সিংহভাগ আইনপ্রণেতার (এমপি) ব্যাপক সমর্থনে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর নাম এখন প্রায় নিশ্চিত। প্রথম দফার মনোনয়ন গণনায় লেবার পার্টির ৪০৩ জন এমপির মধ্যে ৩২২ জনই বার্নহামের প্রতি সরাসরি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য কোনো প্রার্থীর নির্বাচনে দাঁড়ানোর পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে বার্নহামের আর মাত্র একজন এমপির সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে তিনি প্রয়োজনীয় ৩২৩টি মনোনয়নের কোটা থেকে মাত্র এক ভোট দূরে আছেন। বেশ কয়েকজন লেবার এমপি জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিশেষ কারণে তারা উপস্থিত থাকতে না পারলেও পার্লামেন্টে ফিরেই বার্নহামকে নিজেদের আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেবেন।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নতুন কোনো প্রার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশ না নিলে আগামী সপ্তাহেই অ্যান্ডি বার্নহামকে লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আগামী ২০ জুলাই তিনি ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে কার্যভার গ্রহণ করবেন।
কয়েক সপ্তাহ আগে মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে আসা ম্যানচেস্টারের সাবেক এই মেয়রের জন্য এটি একটি নাটকীয় ও অসাধারণ রাজনৈতিক উত্থান। এক বিবৃতিতে বার্নহাম তাঁর ওপর আস্থা রাখার জন্য লেবার এমপিদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “দলের সব স্তরের মানুষের কাছ থেকে আসা এই অভূতপূর্ব সমর্থন প্রমাণ করে যে, ব্রিটেনের রাজনীতিতে এখন একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ওয়েস্টমিনস্টার থেকে সরিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া এবং প্রতিটি অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
এর আগে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের বিপর্যয় এবং পরবর্তীতে বার্নহামের উপ-নির্বাচনে অভাবনীয় জয়ের পর কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। দলের অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে বার্নহাম এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনই স্টারমার লেবার পার্টির নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
দলের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রার্থীদের আগামী সপ্তাহের বুধবারের মধ্যে অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। তবে বার্নহাম একাই ৩২৩ জন এমপির সমর্থন পেয়ে যাওয়ায় অন্য কারও পক্ষে এই কোটা পূরণ করা আর সম্ভব হচ্ছে না।
কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ২০১০ ও ২০১৫ সালের নেতৃত্ব নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়া বার্নহাম এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডাউনিং স্ট্রিটে পা রাখতে যাচ্ছেন। সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আল কার্নস এই দৌড় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ায় বার্নহামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ আরও মসৃণ হয়।
তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় দলের ভেতর থেকেই অনেকে তাঁর ভবিষ্যৎ নীতি ও পরিকল্পনা বিস্তারিত প্রকাশের দাবি তুলেছেন। ২০১৭ সালে ওয়েস্টমিনস্টার ছাড়ার পর দীর্ঘ বিরতির কারণে বর্তমানের নতুন এমপিদের অনেকের সাথেই তাঁর গভীর সংযোগ নেই, যা তাঁর জন্য একটি প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আগামী সোমবার (১৩ জুলাই) এমপিদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজের মহাপরিকল্পনা প্রকাশ করবেন বলে জানা গেছে।
ইতোমধ্যেই নিজের ভবিষ্যৎ সরকারের কিছু রূপরেখা দিয়েছেন বার্নহাম। তিনি ম্যানচেস্টারে একটি নতুন ‘নম্বর ১০’ ইউনিট খোলার প্রস্তাব করেছেন, যা আবাসন ও পরিবহনের মতো খাতে স্থানীয় সরকারকে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে। পাশাপাশি পানি ও জ্বালানি খাতকে জনগণের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। গাজা যুদ্ধ নিয়ে লেবার পার্টির প্রাথমিক অবস্থানের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন বার্নহাম। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা খাতে টেকসই বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশ্বাসও দিয়েছেন। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও বার্নহামের প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি একজন দক্ষ ও দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী হবেন।
সূত্র: বিবিসি

