spot_img

কন্যাসন্তান আল্লাহর বিশেষ উপহার

অবশ্যই পরুন

কোনো ঘরে নবজাতকের প্রথম কান্না আনন্দের উচ্ছ্বাস হয়ে ধ্বনিত হয়, আবার কোনো ঘরে সেই একই নিষ্পাপ কান্না অকারণ বিষাদের ছায়া ডেকে আনে, শুধু সে কন্যা বলে। সময়ের চাকা অনেক দূর এগিয়েছে, সভ্যতার বাহ্যিক রূপ বদলেছে; কিন্তু বহু মানুষের হূদয় আজও জাহিলিয়াতের সেই অন্ধকার মানসিকতা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। আজও কোথাও কন্যাসন্তানের জন্মে মায়ের চোখ ভিজে ওঠে অশ্রুতে; তাকে সহ্য করতে হয় তিরস্কার, শুনতে হয় বিভিন্ন অপমানজনক কথা। সাথে অবহেলা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যতো আছেই। কোথাও অভিনন্দনের বদলে শোনা যায় দীর্ঘশ্বাস, কোথাও আনন্দের পরিবর্তে নেমে আসে নীরবতা। যেন একটি নিষ্পাপ শিশুর একমাত্র অপরাধ—সে কন্যা হয়ে পৃথিবীতে এসেছে।

অথচ ছেলে হোক কিংবা মেয়ে, প্রতিটি সন্তানই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত এক মহামূল্যবান আমানত। পিতা-মাতার জন্য রহমত এবং জান্নাত লাভের অন্যতম মাধ্যম। তাই কন্যার জন্ম কোনো দুর্ভাগ্যের সংবাদ নয়; বরং এটি আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত। কোরআন ও সুন্নাহ বারবার আমাদের সেই সত্যই স্মরণ করিয়ে দেয়। কোরআনে এসেছে, ‘তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন, যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। আবার কাউকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং কাউকে সন্তানহীন রাখেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।’ (সুরা আশ-শুরা, আয়াত : ৪৯-৫০)

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে সন্তান দান ও তার লিঙ্গ নির্ধারণ একমাত্র আল্লাহর সিদ্ধান্ত। বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত যে সন্তানের ছেলে বা মেয়ে হওয়া মায়ের দ্বারা নির্ধারিত হয় না।

ইসলাম-পূর্ব আরব সমাজে তথা, আইয়ামে জাহেলিয়াতে কন্যাসন্তানকে দুর্ভাগ্যের প্রতীক মনে করা হতো। আল্লাহ সেই মানসিকতার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তাদের কাউকে যখন কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং সে দুঃখে গুমরে থাকে। সে লোকদের কাছ থেকে আত্মগোপন করে— এই ভেবে যে, অপমান সত্ত্বেও তাকে রাখবে, নাকি মাটিতে পুঁতে ফেলবে? কতই না নিকৃষ্ট তাদের এ সিদ্ধান্ত! (সুরা আন-নাহল, আয়াত : ৫৮-৫৯)

কন্যা সন্তানের প্রতি নবীজির ভালোবাসা
রাসুলুল্লাহ (সা.) কন্যাসন্তানদের প্রতি গভীর স্নেহ ও ভালোবাসা প্রদর্শন করতেন। তিনি বলেছেন,ফাতিমা আমার দেহের একটি অংশ। তাকে যে কষ্ট দেয়, সে আমাকে কষ্ট দেয়। (বুখারি, হাদিস : ৩৭৬৭)

অন্য এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সফরে যাওয়ার আগে সর্বশেষ ফাতিমা (রা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাত্ করতেন এবং সফর থেকে ফিরে প্রথমেই তাঁর বাড়িতে যেতেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪২১৩)
এটি কন্যাসন্তানের প্রতি নববী ভালোবাসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

কন্যাসন্তান প্রতিপালনের পুরস্কার জান্নাত
আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় কন্যা সন্তানের লালন-পালন ও তার যত্ন নেওয়া মানুষের জন্য জান্নাত লাভের মাধ্যম হতে পারে। হাদিসে এসেছে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুটি কন্যাসন্তানকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করবে, কিয়ামতের দিন সে আমার সঙ্গে এভাবে থাকবে। এরপর তিনি তাঁর দুটি আঙুল একত্র করে দেখালেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৬৩১)

আরও বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার কন্যাসন্তান জন্ম নিল, সে যদি তাকে জীবন্ত কবর না দেয়, অপমান না করে এবং পুত্রসন্তানকে তার ওপর অগ্রাধিকার না দেয়, তবে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫১৪৬)

কন্যা সন্তানও মানুষের জন্য এক ধরনের পরীক্ষা, যারা সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে, তাদের জন্য বিশেষ পুরস্কার রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যাকে কন্যাসন্তান দিয়ে পরীক্ষা করা হয়, আর সে তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করে, সেই কন্যারাই তার জন্য জাহান্নাম থেকে রক্ষাকবচ হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৬২৯) সুবহানাল্লাহ!

শুধু কন্যাই নয়, কোনো ভাইও যদি তার বোনদের লালন পালন করে এবং তাদের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের জন্যও সুসংবাদ দিয়েছেন। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যার তিনটি মেয়ে কিংবা তিনজন বোন অথবা দুটি মেয়ে কিংবা দুটি বোন রয়েছে, সে যদি তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৯১৬)

মহান আল্লাহ সবাইকে জাহেলি চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে এসে কন্যা কিংবা বোনদের সঙ্গে সদাচরণের তাওফিক দান করুন।

সর্বশেষ সংবাদ

বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নসহ কোন দল কত টাকা পাবে?

এক মাসের জমজমাট লড়াই শেষে শেষ পর্বে পৌঁছেছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। নাটকীয়তা, চমক আর উত্তেজনায় ভরপুর আসরটির সমাপ্তি যত...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ