spot_img

ভয়াবহ বিপদের আগেই নিউরোসার্জনের এই পরামর্শগুলো মেনে চলুন

অবশ্যই পরুন

অনেকেই শরীরে বড় ধরনের সমস্যা দেখা না দেয়া পর্যন্ত চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। আবার কেউ কেউ ইন্টারনেটে লক্ষণ খুঁজে নিজেই রোগ নির্ণয় করে ওষুধ খাওয়া শুরু করেন। কিন্তু এসব অভ্যাস অনেক সময় এমন ঝুঁকি তৈরি করে, যার মূল্য দিতে হতে পারে সারা জীবন। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে ভারতের নিউরোসার্জন ও স্পাইন সার্জন ডা. অনুরাগ সাক্সেনা জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা চান মানুষ তিনটি বিষয় সম্পর্কে সচেতন হোক। কারণ সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত অনেক গুরুতর রোগ প্রতিরোধ করতে পারে, এমনকি জীবনও বাঁচাতে পারে।

১. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা

অনেক রোগই দীর্ঘদিন কোনো লক্ষণ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা স্নায়ুর বিভিন্ন সমস্যা শুরুতে তেমন কোনো সংকেত নাও দিতে পারে। তাই নিজেকে সুস্থ মনে হলেও নির্দিষ্ট সময় পরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি।

ডা. অনুরাগের মতে, বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে, তাদের জন্য নিয়মিত চেকআপ ও ফলো-আপ ওষুধের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। এতে রোগের জটিলতা শুরু হওয়ার আগেই ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা সহজ ও কার্যকর হয়।

২. শরীরের সতর্ক সংকেতকে কখনো অবহেলা করবেন না

স্বাস্থ্যসেবায় অনেক ক্ষেত্রেই সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে আঘাতজনিত জরুরি অবস্থায় প্রতিটি মিনিটই মূল্যবান। চিকিৎসকদের ভাষায় এই শুরুর সময়টিকে বলা হয় ‘গোল্ডেন আওয়ার’। এ সময়ের মধ্যে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায় এবং স্থায়ী অক্ষমতার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

এ নিয়ে ডা. অনুরাগ বলেন, হঠাৎ মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, হাত বা পায়ে দুর্বলতা অনুভব করা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা বা শরীরের নড়াচড়ার সমন্বয়ে সমস্যা দেখা দেয়ার মতো প্রাথমিক সতর্ক সংকেতগুলো দ্রুত শনাক্ত করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নেয়া জীবন বাঁচাতে পারে।

৩. গুগল ডাক্তার সব সময় সঠিক উত্তর দেয় না

বর্তমানে সামান্য মাথাব্যথা থেকে শুরু করে যেকোনো শারীরিক সমস্যা হলেই অনেকেই প্রথমে ইন্টারনেটে সার্চ করেন। এরপর নিজের মতো করে রোগ নির্ণয় করে ওষুধ খেয়ে ফেলেন। চিকিৎসকদের মতে, এটিই এখন সবচেয়ে উদ্বেগজনক প্রবণতাগুলোর একটি। ডা. অনুরাগ বলেন, ইন্টারনেটে স্বাস্থ্যবিষয়ক অনেক তথ্য থাকলেও সেগুলো কখনোই একজন চিকিৎসকের অভিজ্ঞতা, রোগীর শারীরিক পরীক্ষা এবং ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নের বিকল্প হতে পারে না। নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া বা অনলাইনের তথ্যের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা নিতে দেরি করলে অনেক সময় সহজে নিরাময়যোগ্য রোগও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

সুস্থ থাকতে সচেতনতা আর প্রতিরোধের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। সময় মতো চিকিৎসা নেয়ার গুরুত্ব বুঝতে হবে। স্বাস্থ্যকর জীবন যানের পাশাপাশি সংকট দেখা দিলে বসে না থেকে চিকিৎসা নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ। অনেক সময় আপনার সচেতনতাই বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে।

সর্বশেষ সংবাদ

৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা কাটল

দেশের ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর কোনো আইনি বাধা রইল না। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ