সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই মজা করে বলছেন, ‘বিশ্বকাপের ট্রফিটা কি এখনই ফ্রান্সের হাতে তুলে দেওয়া যায় না?’। বিশ্বকাপে স্রেফ প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার এক নির্মম উৎসবে মেতেছে কিলিয়ান এমবাপে-মাইকেল অলিসেরা। তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ে তারা যে অন্যতম ফেভারিট সেটা নিয়ে আর কারও বিন্দু পরিমাণ সন্দেহ থাকার কথা নয়। ফরাসিদের এই উড়ন্ত ফর্মের মাঝেই হঠাৎ বারুদ ঢেলে দিয়েছেন স্প্যানিশ তারকা উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল। ফ্রান্সের এমন রাজকীয় ছন্দকেও খুব একটা ‘পাত্তা’ না দিয়ে তিনি হুঙ্কার ছেড়েছেন, ‘ওরা আমাদের চেয়ে সেরা হতে পারে না!’ এর কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্স স্পেনকে হারাতে পারেনি বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
স্প্যানিশ গণমাধ্যম এল পারতিদাযো দে কোপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল এ কথা বলেন।
ফ্রান্সের বিষয়ে তিনি বলেন, না, তারা আমাদের চেয়ে ভালো নয়। ইউরোর পর থেকে তারা আমাদের হারাতে পারেনি। ফ্রান্স দলে অসাধারণ খেলোয়াড় রয়েছে। তারা খুব ভালো দল। কিন্তু আমার মতে, তারা কারও চেয়ে এগিয়ে নয়। আমার কাছে স্পেনের ওপরে কোনো দল নেই।
ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল স্পেন। এছাড়া ২০২৪-২৫ উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালেও ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয় পান লামিন ইয়ামালরা।
তবে চলমান বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পারফরম্যান্সের বিচারে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচ জিতে রাউন্ড অব ৩২-এ আসে দলটি। এরপর সুইডেনকে ৩-০ গোলে বিদায় করেছে দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপেরা। অন্যদিকে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে স্পেন। পরে সৌদি আরবকে ৪-০ এবং উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ এইচের শীর্ষ দল হিসেবে নকআউট পর্বে ওঠে দলটি।
স্পেনের সামনে এখন রাউন্ড অব ৩২-এ অস্ট্রিয়ার চ্যালেঞ্জ। সেই বাধা পেরোতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালেই ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিজেদের সেরা খেলাটা এখনো বাকি বলে মনে করেন ইয়ামাল। তিনি বলেন, অনেকে আমাদের কাছ থেকে আরও ভালো ফুটবল আশা করেছিল। কিন্তু আমরা ইউরোপের বাইরের ভিন্ন ধরনের দলের বিপক্ষে খেলেছি। বিশেষ করে তৃতীয় ম্যাচটি কঠিন ছিল, যেখানে অনেকবার খেলা থেমেছে। সৌদি আরবের বিপক্ষে আমরা ভালো খেলেছি। আর কেপ ভার্দের বিপক্ষে ছিল আমাদের প্রথম ম্যাচ।
তিনি আরও বলেন, আমরা এখনো সত্যিকারের সেরা ম্যাচটি খেলতে পারিনি। তবে যখন আমরা পুরো ছন্দে ফিরব, তখন আমাদের থামানো প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে।
এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছেন ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল। সম্প্রতি হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ভুগলেও সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। আগামী বৃহস্পতিবারের ম্যাচে তার মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও পুরো ৯০ মিনিট তাকে খেলানো নাও হতে পারে।

