spot_img

কাঁচা পেঁপে সত্যিই হার্ট-লিভার ভালো রাখে?

অবশ্যই পরুন

আশপাশে অনেককেই পেঁপে খেতে দেখা যায়। এমনকি আপনি নিজেও হয়তো মাঝে মধ্যেই শখ করে বা বাসা-বাড়ির কারও আবদার মেটাতে বাজার থেকে পাকা পেঁপে কিনে এনে থাকেন। সাধারণত, হলুদ বা কমলা রঙের মিষ্টি পাকা পেঁপে পছন্দ সবার। দিনের শুরুতে পাকা পেঁপে খাওয়া স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। এর নানা উপকারিতাও রয়েছে।

পাকা পেঁপে ছাড়াও কারও কারও কাঁচা পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। প্রতিদিনের সুষম খাদ্যতালিকায় কাঁচা পেঁপে চাইলে সহজেই রাখা যায়। এটি সবজি বা ফল হিসেবে কাঁচা অবস্থায় সংরক্ষণ করা যায়। এর বাইরে সবুজ হলেও ভেতরে সাদা। পাকা পেঁপের তুলনায় কাঁচা পেঁপের স্বাদ কিছুটা মৃদু ও হালকা লবণাক্ত বা তিতকুটে। এ জন্য সালাদ, ভাজি ও তরকারিতে ব্যবহার করা যায়।

স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শপ্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম হেলথ শটসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাঁচা পেঁপে হজমশক্তি উন্নত করে এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণে ভরপুর থাকায় এতে বিভিন্ন উপকারিতা রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা পেঁপেতে ৮৮.১ গ্রাম পানি, ০.৪৭ গ্রাম প্রোটিন, ১০.৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১.৭ গ্রাম ফাইবার, ২০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ২১ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম, ১৮২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ৬০.৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ০.৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই, ৯৫০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন এ এবং ২৭৪ মাইক্রোগ্রাম বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। তাহলে কাঁচা পেঁপে খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক-

হজম প্র্রক্রিয়ায় সহযোগিতা:
নিয়মিত কাঁচা পেঁপে খাওয়া হজমের জন্য উপকারী হতে পারে। ২০১০ সালে জার্নাল অব বায়োমেডিসিন অ্যান্ড বায়োটেকনোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, কাঁচা পেঁপের কস বা ল্যাটেক্স থেকে নিষ্কাশিত প্যাপেইন নামক পরিশোধিত প্রোটিন থাকে। এ ব্যাপারে পুষ্টিবিদ রাম্যা বি. বলেন, প্যাপেইন মূলত একটি পাচক এনজাইম, যা প্রোটিনকে ভেঙে ছোট এবং সহজে শোষণযোগ্য উপাদানে পরিণত করে। এটি আপনার পেট ফাঁপা, বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা কমাতে এবং সামগ্রিকভাবে হজম স্বাস্থ্যের উন্নতিতে কাজ করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি:
পুষ্টিবিদ রাম্যা বলেন, ফলটি ভিটামিন এ, সি, ই-তে ভরপুর, যা ফ্রি র‌্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীরকে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ এবং রোগব্যাধি থেকে রক্ষা করতে পারে। এ জন্য কাঁচা পেঁপের অন্যতম প্রধান উপকারিতা হলো এটি আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।

ওজন কমায়:
কাঁচা পেঁপে শুধু খাদ্যআঁশ বা ফাইবার সমৃদ্ধ নয়, এতে ক্যালোরির পরিমাণও খুব কম। ইউএসডিএ’র তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা পেঁপেতে মাত্র ৪৩ ক্যালোরি থাকে। যা আপনাকে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে। এতে অসময়ে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। ২০২১ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব মলিকুলার সায়েন্সেসে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাপেইন ওজন বৃদ্ধির গতিকে ধীর করতে পারে, যা অতিরিক্ত ওজনের মানুষের জন্য উপকারী।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে:
কাঁচা পেঁপের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম এবং এর ফাইবারের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য কাঁচা পেঁপে উপকারী হতে পারে। কেননা, এটি রক্তে শর্করার আকস্মিক বৃদ্ধি রোধ করে। ২০১৬ সালে জার্নাল অব নিউট্রিশনাল হেলথ অ্যান্ড ফুড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত কাঁচা পেঁপে খাওয়া ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও সহায়তা করতে পারে।

প্রদাহ কমানো:
কাঁচা পেঁপেতে বিদ্যমান প্যাপেইন এবং কাইমোপ্যাপেইনের মতো কিছু ফাইটোকেমিকেল শরীরের প্রদাহ এবং ব্যথার বিরুদ্ধে লড়াই করতে ভূমিকা রাখে। পুষ্টিবিদ রাম্যা বলেন, এটি বিশেষ করে বাতের ব্যথা বা আর্থ্রাইটিস বা অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত সমস্যায় ভোগা রোগীদের জন্য উপকারী।

শক্তি বৃদ্ধি:
কাঁচা পেঁপের আরেকটি বড় গুণ হচ্ছে এটি শরীরের শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুষ্টিবিদ রাম্যা বলেন, এর এনজাইমগুলো পুষ্টির পরিপাক এবং শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা শরীরের শক্তি উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করে।

হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়:
কাঁচা পেঁপেতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, বিপরীতে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানগুলো লো-ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে ভূমিকা রাখে। পুষ্টিবিদ রাম্যা বলেন, কাঁচা পেঁপে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখে:
কাঁচা পেঁপের অধিকাংশ উপকারিতাই এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থেকে আসে, যা লিপিড অক্সিডেশন রোধ করতে সহায়তা করে এবং ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমায়। ২০২৩ সালে নিউট্রিয়েন্টস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় গবেষকরা দেখেছেন, কাঁচা ও পাকা পেঁপের পাতা, খোসা ও শাঁসের চর্বি কমানোর মতো শক্তিশালী ক্ষমতা রয়েছে। যা নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সর্বশেষ সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ অভিহিত করে সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ‘অভূতপূর্ব সাফল্যের’ স্বীকৃতি হিসেবে...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ