বোস্টন স্টেডিয়ামে আজ যা ঘটলো, তা স্রেফ একটা হ্যাটট্রিক নয়— এটা ফুটবল ইতিহাসের একটা পৃষ্ঠা। উসমান দেম্বেলে ৩২ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করে বসিয়ে দিলেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিকের আসনে।
৭ মিনিটে শুরু, ২০ মিনিটে দ্বিতীয় গোল, আর ৩২ মিনিটে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ— মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে তিনবার জালে বল জড়িয়েছেন ব্যালন ডি’ওর জয়ী এই ফরোয়ার্ড।
এই কীর্তির শীর্ষে এখনও বসে আছেন অস্ট্রিয়ার এরিখ প্রোবস্ট। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম ২৪ মিনিটের মধ্যেই হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেছিলেন তিনি— যা ৭২ বছর ধরে অক্ষুণ্ণ রয়েছে বিশ্বকাপের দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড হিসেবে। দেম্বেলের আজকের কীর্তি সেই রেকর্ডের সবচেয়ে কাছে পৌঁছানো দ্বিতীয় ঘটনা, প্রায় সাত দশকের ইতিহাসে।
বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই তালিকায় জায়গা করে নেওয়া কতটা কঠিন, তা বোঝা যায় সংখ্যার দিকে তাকালে। ৮০০-র বেশি ম্যাচের মধ্যে এখন পর্যন্ত হ্যাটট্রিক হয়েছে মাত্র ৫৬টি— আর তার মধ্যে দ্রুততম এই দুটি ছাড়া বাকি সবগুলোই অনেক বেশি সময় নিয়েছে সম্পন্ন হতে।
প্রথম গোলটা এসেছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের লম্বা পাস থেকে— নরওয়ের ডিফেন্ডারদের ঢিলেঢালা মার্কিংয়ে সুযোগ নিয়ে ভেতরে-বাইরে কেটে বিস্ফোরক শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। দ্বিতীয় গোলে রেফারি মাইকেল অলিভারের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তও জড়িয়ে আছে— লিও অস্টিগার্ড এমবাপ্পের জার্সি টেনে ধরেছিলেন, কিন্তু খেলা থামেনি, আর সেই সুযোগেই একই ধরনের পজিশন থেকে আবারও জালে বল পাঠান দেম্বেলে। তৃতীয় গোলে আরও একবার প্রমাণ হলো— আজ তাকে থামানোর কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিল না নরওয়ের রক্ষণ।
কোচ স্টালে সোলবাক্কেন এই ম্যাচে আর্লিং হলান্ড ও মার্টিন ওদেগার্ডকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন, একাদশে মোট দশটি পরিবর্তন এনেছিলেন— লক্ষ্য ছিল শেষ ৩২-এর রাউন্ডের জন্য মূল খেলোয়াড়দের সংরক্ষণ। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের মাশুল দিতে হলো ভয়াবহভাবে। থেলো আসগার্ডের একটি গোলে ব্যবধান একবার কমলেও, দেম্বেলের ঝড় থামানো সম্ভব হয়নি।
ফ্রান্সের জন্য এই ম্যাচটা ছিল নিশ্চিন্তের, কারণ তারা আগেই নকআউট নিশ্চিত করে ফেলেছিল। কিন্তু দেম্বেলে আজ প্রমাণ করলেন— চাপহীন একটা ম্যাচেও ইতিহাস লেখা যায়। ৭২ বছরের পুরনো একটা রেকর্ডের এত কাছে পৌঁছে যাওয়াটাই বলে দেয়, আজকের রাতটা ফরাসি ফুটবলের জন্য কতটা বিশেষ।

