spot_img

হরমুজ খুলতে দুই শর্ত দিল ইরান

অবশ্যই পরুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। লেবাননে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে দুটি শর্ত সামনে এনেছে তেহরান।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর করতে হবে এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। এই দুই শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার অবস্থানে রয়েছে তেহরান।

রোববার (২১ জুন) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ এবং ইরানের তেল বিক্রির সুযোগ পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা হবে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরুর বিষয়টি রোববার নিশ্চিত করেছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে রোববার সুইজারল্যান্ডে ‘লেক লুসার্ন শীর্ষ সম্মেলন এবং উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রথম বৈঠক শুরুর’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং দুই মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল-গ্যাস সমৃদ্ধ দেশ কাতার বলছে, এই বৈঠক একটি ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির দিকে নিয়ে যাবে; যা সমঝোতা স্মারকের সব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে। বিবৃতিতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরেও বলা হয়েছে, লেবাননে বিস্তৃত যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের জব্দ থাকা সম্পদ নিয়ে আলোচনা করতে ইরান, কাতার এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে বৈঠকে বসেছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি বলেছে, লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ সচল করার বিষয়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যে বর্তমানে আলোচনার নির্ধারিত স্থানে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। আরব উপদ্বীপ এবং ইরানের মধ্যবর্তী সরু এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন হয়। প্রতিদিনের হিসেবে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আনা-নেওয়া করা হয় গুরুত্বপূর্ণ এ সমুদ্রপথে। ফলে, প্রাণালীটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা এবং সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে আবারও।

সর্বশেষ সংবাদ

মালয়েশিয়ার কারাগারে থাকা বাংলাদেশিদের মুক্ত করতে চেষ্টা চালাবো: প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়ায় অনেক বাংলাদেশি আটকে আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এখানে আটক দুই হাজারের বেশি মানুষকে কীভাবে মুক্ত করা...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ