ক্লাব ফুটবলের নাটকীয় এক মৌসুম শেষ হতেই এবার চোখ বিশ্বকাপের দিকে। আর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে উত্তেজনা এবার অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। কারণ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। মোট ১৬টি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ১০৪টি ম্যাচ। নতুন ফরম্যাটে এবার যুক্ত হয়েছে রাউন্ড অব ৩২। অর্থাৎ নকআউট পর্বও হচ্ছে আরও বড়।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে এবার অংশ নিচ্ছে ছয়টি দল, যার মধ্যে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলও রয়েছে। ব্রাজিলের কোচ হিসেবে এবার দায়িত্বে আছেন কার্লো আনচেলত্তি।
ইউরোপ থেকে খেলছে ১৬টি দল। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি এবং বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। তবে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি এবারও বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি।
এবারের বিশ্বকাপে অভিষেক হচ্ছে চার দেশের—কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান ও উজবেকিস্তানের। ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে একমাত্র প্রতিনিধি নিউজিল্যান্ড।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে অপ্টা সুপারকম্পিউটার ২৫ হাজারবার টুর্নামেন্টের সিমুলেশন চালিয়ে সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করেছে। সেই পূর্বাভাসে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা দেখা হচ্ছে স্পেনের।
সুপারকম্পিউটারের হিসাবে, ২৫ হাজার সিমুলেশনের ১৬.১ শতাংশে বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। ফলে তারাই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ফেবারিট। তাদের পর রয়েছে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্পেনই একমাত্র দল যারা ৫০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। ৫২.১ শতাংশ সিমুলেশনে শেষ আটে গেছে তারা। এছাড়া ৩৯ শতাংশ ক্ষেত্রে সেমিফাইনাল এবং ২৫.৬ শতাংশ ক্ষেত্রে ফাইনালে উঠেছে লা রোজারা।
গ্রুপ পর্বেও তুলনামূলক সহজ ড্র পেয়েছে স্পেন। গ্রুপ এইচে তাদের প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে, সৌদি আরব ও কেপ ভার্দে। ৭৫.৩ শতাংশ সিমুলেশনে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন।
স্পেনকে এত এগিয়ে রাখার বড় কারণ তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। ইউরো ২০২৪ জয়ের সময় থেকেই তাকে ভবিষ্যৎ সুপারস্টার হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচগুলো নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে।
গত মৌসুমে লা লিগায় কিলিয়ান এমবাপ্পে ছাড়া আর কোনো খেলোয়াড় ইয়ামালের চেয়ে বেশি গোল অবদান রাখতে পারেননি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ইয়ামালের ছিল ২৪ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট।
দলের অধিনায়ক হিসেবে ফিরেছেন রদ্রি। এছাড়া ফেরান তোরেস, মিকেল ওয়ারসাবাল ও মিকেল মেরিনো দারুণ ফর্মে আছেন।
তবে বিশ্বকাপে স্পেনের ইতিহাস ইউরোর মতো ধারাবাহিক নয়। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় একমাত্র বিশ্বকাপ জিতেছিল তারা। শেষ ১৪ আসরের মধ্যে সেটিই ছিল তাদের একমাত্র সেমিফাইনাল।
তারপরও অপ্টা সুপারকম্পিউটারের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপ জিততে হলে অন্য দলগুলোকে সবচেয়ে কঠিন বাধা হিসেবে স্পেনকেই টপকাতে হবে।

