spot_img

চুক্তি না হলে ইরানে ফের সামরিক অভিযানের হুমকি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

অবশ্যই পরুন

সিঙ্গাপুরে শুরু হওয়া এশিয়াভিত্তিক নিরাপত্তা জোট ‘সাংগ্রি-লা ডায়লগ’-এর সম্মেলনে যোগ দিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানকে নিয়ে এক তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত চুক্তি সম্পন্ন না হলে ইরানে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি ‘ভালো চুক্তি’র আশায় কিছুটা ধৈর্য ধরে আছেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখা। তবে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন যে সামরিক পথেই হাঁটবে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ আরও উল্লেখ করেন, শেষ পর্যন্ত যদি কোনো চুক্তি না হয়, তবে ইরানে পুনরায় হামলা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সামরিক উপকরণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনীর সক্ষমতা ও প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই দাবি করে তিনি বলেন, সম্ভাব্য হামলার জন্য যতটুকু অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রয়োজন, তার চেয়েও অনেক বেশি মার্কিন ভাণ্ডারে রয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসন একদিকে তাদের প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তিকে ব্যাপকভাবে শক্তিশালী করছে—যাতে দ্রুততম সময়ে যুদ্ধাস্ত্রের উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়ানো যায়, এবং অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে তাদের সমস্ত সামরিক পরিকল্পনার জন্য যথাযথ অর্থায়ন নিশ্চিত করে চলেছে।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের জেরে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। টানা ৪০ দিনের তীব্র সংঘাতের পর গত ৭ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যা এখনও বলবৎ রয়েছে। এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে একটি স্থায়ী সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানো। তবে যুদ্ধবিরতির প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সেই স্থায়ী চুক্তির বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি লক্ষ করা যায়নি।

এমন পরিস্থিতিতে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার লক্ষ্যে নতুন একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো এই নতুন চুক্তিতে চূড়ান্ত সায় দেননি। কূটনৈতিক এই জটিলতা ও এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে ইরানে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক হামলা শুরুর এই নতুন হুমকি এলো।

সর্বশেষ সংবাদ

‘মানুষ শহীদ জিয়ার শাহাদাত-বার্ষিকী স্বাধীনভাবে পালন করতে পারেনি’

দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (৩০ মে) রাজধানীর...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ