জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো দীর্ঘ চার সপ্তাহব্যাপী নিবিড় আলোচনার পরও পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং নিরস্ত্রীকরণের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। সম্মেলনের শীর্ষ নেতৃত্ব গতকাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরা‘র।
শুক্রবার (২২ মে) নিউইয়র্কে চলমান এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের সভাপতি এবং ভিয়েতনামের শীর্ষ কূটনীতিক দো হুং ভিয়েত সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও, সম্মেলনটি তার মূল কাজের বিষয়ে কোনো সাধারণ সমঝোতায় পৌঁছানোর মতো পরিস্থিতিতে নেই।
তিনি আরও জানান, এই পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত নথি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে না।
ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সম্মেলনের খসড়া দলিলের একটি অংশ তাদের হাতে এসেছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান— যাদের কাছে বর্তমানে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই— তাদের কখনোই এই ধরনের মারণাস্ত্র তৈরি বা উন্নয়ন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মূলত এই ধরনের কিছু কড়া শর্ত ও ভূ-রাজনৈতিক অনড় অবস্থানের কারণেই আলোচনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়।
আলোচনায় মূলত কয়েক দশক পুরোনো ট্রিটি অন দ্য নন-প্রলিফারেশন অব নিউক্লিয়ার উইপনস (এনপিটি) চুক্তি পর্যালোচনা করা হচ্ছিল। এই চুক্তির আওতায় ১৯১টি দেশ সম্মত হয়েছিল যে, ১৯৬৭ সালের আগে যে পাঁচটি দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র ছিল, কেবল তারাই এসব অস্ত্র রাখতে পারবে। দেশগুলো হলো— যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য।
তবে বর্তমানে আরও চারটি দেশ— ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল এবং উত্তর কোরিয়ার কাছেও পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।
এদিকে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বে মোট ১২ হাজার ২৪১টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

