যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়াতে নতুন ‘টেক ইউনিট’ গঠন করছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। ‘আলুমত’ নামের এই ইউনিট তথ্য বিশ্লেষণ, সাইবার সক্ষমতা ও এআই প্রযুক্তিকে সরাসরি যুদ্ধ পরিচালনায় কাজে লাগাবে বলে জানিয়েছে আইডিএফ।
শুক্রবার (২২ মে) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট এ তথ্য জানায়।
এর আগে, বুধবার (২০ মে) এক ঘোষণায় আইডিএফ জানায়, নতুন এই বিভাগে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সেনাসদস্যদের পাশাপাশি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, তথ্য বিশ্লেষক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞরা কাজ করবেন। ইউনিটটি আইডিএফের অন্যান্য শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরি করবে।
আইডিএফের ভাষ্য, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে তথ্যগত সুবিধা ধরে রাখা এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতেই এই ইউনিট গঠন করা হচ্ছে।
আইডিএফের কমিউনিকেশনস অ্যান্ড সাইবার ডিফেন্স বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল আভিয়াদ দাগান বলেন, যুদ্ধক্ষেত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রয়োজন হচ্ছে। ‘আলুমত’ ইউনিট সামনের সারির সেনাদের কাছে তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সক্ষমতা পৌঁছে দেয়ার কাজ করবে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, আইডিএফের ‘মাত্সপেন’ ইউনিট ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইউনিটটি সামরিক বাহিনীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ‘বিগ ডাটা’ প্রযুক্তির সমন্বয়ে কাজ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘লোকেম’ নামের একটি বিশেষ এআইভিত্তিক সিস্টেম ইরানে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের কাজ পরিচালনা করেছে। এই সিস্টেম বিমান বাহিনীর বিশেষ ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানে হামলার পরিকল্পনা তৈরি করছে।
এদিকে, আভিয়াদ দাগান নিজেও সাম্প্রতিক ইরান অভিযানে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর সাবেক ঘাঁটি কমান্ডার দাগান ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ মিশনে অংশ নেন। তার সঙ্গে অভিযানে ছিলেন আইডিএফের সাবেক কৌশল ও ইরানবিষয়ক বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল (রিজার্ভ) তাল কেলমানও।

