spot_img

মা দিলারা জামানকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ মেয়ের

অবশ্যই পরুন

আজ বিশ্ব মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই মা দিবস। বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে পর্দার বাইরের দিলারা জামানকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন তাঁর মেয়ে জুবায়রা জামান চৌধুরী। মায়ের প্রতি ভালোবাসা, অভিমান, শ্রদ্ধা আর না বলা অনুভূতির কথাই উঠে এসেছে তাঁর লেখায়।

জুবায়রা জানান, প্রায় ২৬ বছর ধরে তিনি দেশের বাইরে বসবাস করছেন। ২০১৪ সালে তাঁর বাবা মারা যাওয়ার আগে মেয়ের কাছে একটি কথাই বলেছিলেন—‘তোর মায়ের দায়িত্ব আমি তোকে দিয়ে যেতে চাই।’ কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর দিলারা জামান যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকতে রাজি হননি। গ্রিন কার্ড পর্যন্ত ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন। সেই সময় নিজেকে ব্যর্থ মনে হয়েছিল বলে জানান জুবায়রা।

মায়ের সঙ্গে তাঁর সবচেয়ে বড় অভিমান পর্দার অভিনয় ঘিরে। নাটকে ছেলেমেয়েদের জড়িয়ে ধরা বা চুমু খাওয়ার দৃশ্য দেখলে মন খারাপ হয় বলে জানান তিনি। কারণ বাস্তব জীবনে দিলারা জামান খুব একটা আবেগ প্রকাশ করতেন না। জুবায়রার ভাষায়, তাঁদের প্রজন্ম হয়তো ভালোবাসার প্রকাশকে এতটা গুরুত্ব দিত না।

দিলারা জামান ছিলেন অত্যন্ত কঠোর মা। দুই মেয়েকে কঠোর শাসনের মধ্যে বড় করেছেন তিনি। সন্ধ্যার মধ্যে বাসায় ফিরতে হতো, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বা বাইরে খাওয়ার সুযোগও খুব সীমিত ছিল। ছেলে বন্ধুদের বাসায় আনার অনুমতি থাকলেও তা ড্রয়িংরুম পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এই কঠোরতার মধ্যেই সন্তানদের সততা ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দিয়েছেন তিনি।

জুবায়রা জানান, তাঁর বাবা বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (প্রশাসন) ছিলেন। বাবা-মা দুজনই সৎ জীবনযাপন করেছেন এবং কোনো ধরনের লোভ-লালসার কাছে মাথা নত করেননি। সেই শিক্ষা সন্তানদের মধ্যেও প্রভাব ফেলেছে।

চট্টগ্রামে থাকাকালে দিলারা জামান থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে ঢাকায় এসে সংসার ও সন্তানদের জন্য অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতি নেন। স্কুলে আনা-নেওয়া, রান্নাবান্না থেকে শুরু করে সংসারের প্রতিটি দায়িত্ব নিজ হাতে সামলাতেন। সন্তানদের কখনো গৃহপরিচারিকার রান্না খেতে দেননি বলেও জানান তাঁর মেয়ে।

পরে হুমায়ূন আহমেদের ‘এইসব দিনরাত্রি’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে ফেরেন দিলারা জামান। তখন থেকেই মা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন পরিচিতি পান তিনি। জুবায়রার মতে, পরিবারের জন্যই নিজের ক্যারিয়ারে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাঁর মা।

মায়ের মানবিক দিক নিয়েও কথা বলেছেন জুবায়রা। তিনি জানান, কারও অসুস্থতা, পড়ালেখা বা আর্থিক সমস্যার কথা শুনলে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যেতেন দিলারা জামান। নিজের জমানো অর্থও অনেক সময় অন্যদের জন্য খরচ করে ফেলতেন। অনেকে সেই উদারতার সুযোগ নিলেও তিনি তা নিয়ে ভাবতেন না।

জুবায়রা আরও জানান, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে ছোটবেলা থেকে আশিক নামে একটি ছেলে বড় হয়েছে। দিলারা জামান তাকে নিজের সন্তানের মতোই স্নেহ করেছেন। বর্তমানে আশিকই তাঁর সঙ্গে থাকে এবং দেখাশোনা করে।

বর্তমানে বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও কাজই দিলারা জামানের সবচেয়ে বড় সঙ্গী বলে মনে করেন তাঁর মেয়ে। ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা ও শ্রবণ জটিলতা থাকলেও অভিনয় তাঁকে একাকিত্ব থেকে দূরে রাখে।

বিদেশে থাকলেও মায়ের হাতের রান্না, বিশেষ করে মাছের ঝোল আজও খুব মিস করেন জুবায়রা। তাঁর ভাষায়, কম মসলার হালকা ঝোলের সেই স্বাদ এখনও ভুলতে পারেননি তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ

মুখ্যমন্ত্রী হয়ে প্রথম অর্ডারে সই বিজয়ের, বিদ্যুৎ দিলেন ফ্রি করে

দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া তামিলাগা ভেত্রি কাজাগমের (টিভিকে) সভাপতি চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ