বায়ার্ন মিউনিখ-রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে যা হলো, তার বিশেষণে শুধু ‘থ্রিলার’ বললে খানিকটা আদতেও কমই হয়ে যায়। গোল হয়েছে, গোলের জবাব এসেছে, নাটকীয়তাও কি কম হয়েছে? এমন সব ঘটনায় ঠাসা ম্যাচে শেষ হাসিটা বায়ার্ন হেসেছে। পুরো ম্যাচে প্রথমবার ব্যাভারিয়ানরা লিড নিয়েছে ম্যাচের শেষ কিকে এসে, আর তাতেই ৪-৩ গোলের জয় আর সামগ্রিকভাবে ৬-৪ ব্যবধান নিয়ে তারা চলে গেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ চারে।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ইউসিএলের ফিরতি লেগে গোল বন্যা হয়েছে। ৫ গোলের পাগলাটে প্রথামার্ধে এগিয়ে ছিল রিয়াল। আর দ্বিতীয়ার্ধ ছিল বাভারিয়ানদের। এই অর্ধে মোট তিনটি গোল করেন কেইনরা।
ম্যাচ ঘড়ির মাত্র ৪৬ সেকেন্ডে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। ২৫ গজ দূর থেকে লক্ষ্যভেদ করেন আর্দা গুলের। বায়ার্ন শোধ নিতে বেশি সময় নেয়নি। প্রথম মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর চতুর্থ মিনিটে দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তন করে বাভারিয়ানরা। বাঁ পাশের কর্নার থেকে জশুয়া কিমিখের নেয়া ডেলিভারিটি ছিল এক কথায় অসাধারণ। আলেকজান্ডার পাভলোভিচ গোললাইনের একদম কাছ আলতো হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন। ১-১ সমতা।
২৮তম মিনিটে সেটপিস থেকে ফ্রি কিকে নয়্যারকে বোকা বানান গুলের। এই চোখধাঁধানো গোলের সুবাদে ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল। আর দুই লেগ মিলিয়ে ফিরল ৩-৩ সমতায়।
আর্দা গুলেরের দ্বিতীয় গোলের পর যখন রিয়াল মাদ্রিদ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, তখনই দৃশ্যপটে হাজির হ্যারি কেইন। দায়ো উপামেকানোর বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লুনেনকে পরাস্ত করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে ২-২ সমতা ফিরলেও, এগ্রিগেটে বায়ার্ন এখন ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
গোল হজমের পরের মিনিটে মেজাজ ঠিক রাখতে পারেননি এদার মিলিতাও। ব্রাজিল সেন্টারব্যাক টেনে ফেলে দেন কেইনকে। রেফারিও হলুদ কার্ড দেখাতে ভুল করেননি।
৪০তম মিনিটে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করে এমবাপ্পে। বা প্রান্ত থেকে আক্রমণে ওঠে সতীর্থ ভিনিকে ক্রস দেন ভিনি। সে শট থেকে গোল আদায় করেন এমবাপে। লিগে এটি তার ১৫তম গোল। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল শোধের নেশায় মরিয়া হয়ে ওঠে বায়ার্ন। কিন্তু একের পর এক আক্রমণ মুখ থুবড়ে পড়ে। ওদিকে রিয়ালও তখন গোল মিসের মহড়ায় ব্যস্ত। দ্বিতীয়ার্ধের নির্ধারিত সময়ের যখন আর মিনিট পাঁচেক বাকি, তখনই দুঃস্বপ্ন নেমে আসে রিয়াল শিবিরে। কেইনকে ফাউল করে দ্বিতীয় কার্ড দেখেন কামাভিঙ্গা। বদলি হিসেবে নামার পর ৭৬তম মিনিটে জামাল মুসিয়ালাকে ফাউল করে প্রথম কার্ড দেখেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। এরপর ৮৬তম মিনিটে কেইনকে ফাউল করতেই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
৮৮তম মিনিটে সুযোগ বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগান দিয়াস। মুসিয়ালার সঙ্গে দুর্দান্ত রসায়নের পর ২০ গজ দূর থেকে এক চোখধাঁধানো শট নেন দিয়াস। মিলিতাওয়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করায় বলটি লুনিনের নাগালের বাইরে চলে যায় এবং টপ-রাইট কর্নার দিয়ে জালে জড়ায়। তাতে এগ্রিগেটে এখন ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে বায়ার্ন।
যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন ওলিসে। রিয়ালের সব প্রচেষ্টায় জল ঢেলে দিলেন ফরাসি রাইট উইঙ্গার। ম্যাচের শেষ দিকে রিয়াল যখন মরিয়া হয়ে অল-আউট আক্রমণে, ঠিক তখনই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মাদ্রিদের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন তিনি।
এই গোলের সুবাদে ৪-৩ ব্যবধানে জয় এবং দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ এগ্রিগেটে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করল বায়ার্ন।
লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের আরেক ম্যাচে এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনাল ও স্পোর্টিংয়ের ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছে। প্রথম লেগে ১-০ গোলে জেতায় পরের ধাপে পৌঁছে গেছে আর্সেনাল।

