spot_img

পাকিস্তানের দিকে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিল সৌদি

অবশ্যই পরুন

অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাওয়া পাকিস্তানের জন্য বড় এক আশার আলো নিয়ে এল সৌদি আরব। দেশটির কঠিন সময়ে পূর্ণ আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে রিয়াদ। সম্প্রতি সৌদি অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-জাদানের এক উচ্চপর্যায়ের পাকিস্তান সফরের মাধ্যমে এই ঘোষণা আসে। এতে করে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সৌদি অর্থমন্ত্রীর একদিনের এই সংক্ষিপ্ত সফরে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা। বৈঠকে জানানো হয়, সৌদি আরব কেবল সাময়িক সাহায্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার মাধ্যমে পাকিস্তানকে সংকটমুক্ত করতে চায়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, ঋণের পরিমাণ বাড়ানো, ক্রেডিট লাইনের প্রসার এবং তেল আমদানিতে বিশেষ আর্থিক সুবিধা প্রদানের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সৌদি আরবের কাছে ৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ এবং তেল আমদানিতে আর্থিক সুবিধার মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই মাসেই পাকিস্তানকে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে, যার মধ্যে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ইউরোবন্ড ইতিমধ্যেই পরিশোধ করা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে এখন সৌদি আরবের এই সহযোগিতা পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
কেবল ঋণ নয়, দুই দেশই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্পর্ক আরও গভীর করতে একমত হয়েছে। সৌদি অর্থমন্ত্রী তার সফরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সৌদি আরব সবসময়ই পাকিস্তানের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে প্রমাণ দিয়েছে।

বৈঠকে আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়েও আলোচনা হয়। সৌদি অর্থমন্ত্রী ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানও আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে নিজেদের গঠনমূলক ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সফর শেষে ইসলামাবাদ বিমানবন্দর ত্যাগের সময় পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব তাকে বিদায় জানান। আশা করা হচ্ছে, আসন্ন বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর বৈঠকেও দুই দেশের প্রতিনিধিরা পরবর্তী ধাপের আলোচনা এগিয়ে নেবেন।

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

সর্বশেষ সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর কাজের প্রতি ৭৫.৩ শতাংশ মানুষের সমর্থন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনের ধরনকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছেন দেশের তিন-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ। নতুন এক জাতীয় জনমত জরিপে এমন...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ