spot_img

পিসিওএসের লক্ষণ কী? নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফলমূলের গুরুত্ব জানালেন পুষ্টিবিদ

অবশ্যই পরুন

প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়। দিবসটিতে নানা আয়োজন থাকে। নারীর সম্মান ও অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, একইভাবে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপনের ধরন ও সচেতনতনাও জরুরি। নারীর স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার মধ্যে একটি পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস (PCOS) জটিলতা। যা নারীদেহে একটি হরমোনজনিত সমস্যা।

বর্তমানে পিসিওএসের সমস্যা নারীদের মধ্যে বিশেষভাবে লক্ষণীয়। পিসিওএসের রিস্ক ফ্যাক্টরসমূহের মধ্যে লাইফস্টাইল অন্যতম কারণ। নারী স্বাস্থ্যের এই পিসিওএস সংক্রান্ত ব্যাপারে চ্যানেল 24 অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজধানীর ড্রীম ফার্টিলিটি কেয়ার এবং হেমায়েতপুর সেন্ট্রাল হসপিটালের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিম্নের ৩টি লক্ষণের মধ্যে কমপক্ষে ২টি থাকলে পিসিওএস হিসেবে বিবেচনা করা হয়—

১. ওভারিতে অনেক ছোট ছোট ফলিকল (২–৯ মিমি) দেখা যায় বা ওভারির ভলিউম ১০ সেমি³ এর বেশি হয়।
২. অনিয়মিত বা বন্ধ ডিম্বস্ফোটনজনিত সমস্যা। যার ফলে মাসিক অনিয়মিত হয় বা অনেক সময় ডিম্বাণু তৈরি হয় না।
৩. হাইপার অ্যান্ড্রোজেনিজম, অর্থাৎ নারীদেহে পুরুষ হরমোন বেশি থাকা। যার কারণে ব্রণ, অতিরিক্ত লোম বা চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। এমনকি মুখে পুরুষদের মতো অতিরিক্ত লোমও গজায়।

পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা বলেন—

পিসিওএস শুধু মাসিক বা প্রজনন সমস্যা নয়। এটি শরীরের বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গেও সম্পর্কিত। একইসঙ্গে মেটাবলিক ইস্যু তৈরি করে থাকে। যেমন- ওজন বৃদ্ধি, বন্ধ্যাত্ব (Infertility), মেটাবলিক সিনড্রোম ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি ও ফ্যাটি লিভার।

এছাড়াও পিসিওএস থাকলে গর্ভাবস্থায় কিছু ঝুঁকি বাড়তে পারে। যেমন- মিসক্যারেজ, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (GDM), কম ওজনের শিশু জন্ম, সময়ের আগেই প্রসব। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনব্যবস্থার মাধ্যমে পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

পিসিওএসে সাধারণত ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সসমৃদ্ধ, বেশি ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত ফল গ্রহণ করা বেশি উপকারী। সারাদিন রোজা রাখার পর খাবার সিলেকশন করার সময় স্মার্টলি চয়েজ করতে হবে। পানি বা শরবত ও খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙার পর সাধারণত ফল গ্রহণ করা হয়। তবে পিসিওএস পেশেন্টদের ফল নির্বাচনের বিষয়টি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন এ পুষ্টিবিদ।

যেসব ফল পিসিওএসে ভালো—
আপেল: ফাইবার (পেকটিন) সমৃদ্ধ, যা ব্লাড সুগার ধীরে বাড়ায় এবং ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
জাম (কালো জাম): প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা গ্লুকোজ মেটাবলিজমে সহায়তা করে।
বেদানা: পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল। ইনফ্লামেশন কমাতে ও হরমোন ব্যালান্সে সাহায্য করে।
নাশপাতি: ফাইবার বেশি ও গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় ব্লাড সুগার দ্রুত বাড়ায় না।
পেঁপে: হজম ভালো করে, ফাইবার ও ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ হওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পাশাপাশি বিটা ক্যারোটিনের যোগান দেয়।

পিসিওএস পেশেন্টদের জন্য আরও যেসব ফল ভালো এবং নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখা যেতে পারে, তা হলো- পেয়ারা, কমলা বা মাল্টা, স্ট্রবেরি বা অন্যান্য বেরি, কিউই, এভোকাডো ও ড্রাগন ফল। তবে ফলের জুস করে খাওয়ার পরিবর্তে আস্ত ফল গ্রহণ করা বেশি স্বাস্থ্যসম্মত ও উপকারী বলে জানালেন পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা।

সর্বশেষ সংবাদ

মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের কারণে ৩০ কোটি মানুষের খাদ্য পরিবহন রুট হুমকিতে

ইরান জানিয়েছে, দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের ফলে শুধু ইরান নয়, বরং পশ্চিম এশিয়া ও ইউরেশিয়ার প্রায়...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ