spot_img

আপনার শিশু কি পর্যাপ্ত ঘুমাচ্ছে, গবেষণায় উঠে এলো চমকপ্রদ তথ্য

অবশ্যই পরুন

ঘুম আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিশু থেকে বয়স্ক সুস্থ থাকতে ঘুম দরকার। কিন্তু আপনি পর্যাপ্ত ঘুমাছেন তো? বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টা বেশি ভাবনার বিষয়। অনেক অভিভাবকই মনে করেন তাদের সন্তান যথেষ্ট ঘুমায়। কিন্তু নতুন এক জরিপ বলছে, বাস্তবে অনেক শিশুই বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ঘুম পাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোটোবেলায় পর্যাপ্ত ঘুম না হলে তা শুধু শিশুর দৈনন্দিন আচরণ নয়, ভবিষ্যতের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বয়সভেদে শিশুদের কত ঘণ্টা ঘুম দরকার: বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের বয়স অনুযায়ী ঘুমের প্রয়োজন ভিন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউনডেশন কোন বয়সে কত ঘণ্টা ঘুমাতে হবে সেটা জানুয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী—

  • নবজাতক (০–৩ মাস): ১৪–১৭ ঘণ্টা
  • শিশু (৪–১১ মাস): ১২–১৫ ঘণ্টা
  • টডলার (১–২ বছর): ১১–১৪ ঘণ্টা
  • প্রি–স্কুল বয়সী (৩–৫ বছর): ১০–১৩ ঘণ্টা
  • স্কুলগামী শিশু (৬–১৩ বছর): ৯–১১ ঘণ্টা

কিন্তু জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪৪ শতাংশ শিশু নিয়মিত এই পরিমাণ ঘুম পায় না। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ঘুমের ঘাটতি বেশি দেখা যাচ্ছে। এই সমস্যা বিশ্বের অন্যান্য দেশেও রয়েছে।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ঘুম?

ঘুম শুধু বিশ্রাম নয় এটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গবেষকদের মতে, ছোটবেলায় যেভাবে ঘুমের অভ্যাস তৈরি হয়, তা ভবিষ্যতের ঘুমের ধরনও নির্ধারণ করে। গবেষক জোসেফ ডিজিএরজিউস্কি বলেন, আমরা একা ঘুমাই না, বরং সামাজিক পরিবেশের মধ্যেই ঘুমের অভ্যাস তৈরি হয়। তাই পরিবারে ঘুমের পরিবেশ ও অভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ।

জরিপে অংশ নেয়া প্রায় ৯৫ শতাংশ অভিভাবক বলেছেন, ভালো ঘুম পুরো পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য জরুরি। আর প্রায় ৮০ শতাংশ অভিভাবক জানিয়েছেন, সন্তান ঠিকমতো না ঘুমালে তাদের নিজের ঘুমও ব্যাহত হয়।
অভিভাবকদের মতে, ৬৯ শতাংশ মনে করেন, কম ঘুম শিশুর মেজাজ ও পড়াশোনায় প্রভাব ফেলে। আর ৮৬ শতাংশ মনে করেন, ভালো ঘুম শিশুর আচরণ ও মনোভাব উন্নত করে।

ঘুম কম হওয়ার কারণ:বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত তিনটি কারণে শিশুদের ঘুম কম হচ্ছে—

  • অনেক বাবা–মা জানেন না তাদের সন্তানের ঠিক কতটা ঘুম প্রয়োজন।
  • অনেক সময় শিশুর ঘুমের প্রয়োজনকে কম করে ধরা হয়।
  • পরিবারে ঘুম নিয়ে আলোচনা খুব কম হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক পরিবারে শিশুদের সঙ্গে ঘুমের গুরুত্ব নিয়ে খুব কম কথা বলা হয়।

 দুপুরের ঘুম কি ক্ষতিকর?

অনেকে মনে করেন দুপুরে ঘুমালে রাতে ঘুম কম হবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট শিশুদের জন্য দুপুরের ঘুম খুবই প্রয়োজনীয়। জরিপ অনুযায়ী, ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৯৩ শতাংশ নিয়মিত ঘুমায়। আর ১ থেকে বছরের শিশুদের ৯২ শতাংশ। অন্যদিকে, ৩–৫ বছরের শিশুদের প্রায় ৪৭ শতাংশ। দুপুরের ছোট্ট একটি ঘুমও মোট ঘুমের সময় বাড়াতে সাহায্য করে।

ভালো ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে: বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রুটিনই ভালো ঘুমের চাবিকাঠি। যেমন—

  • প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া
  • ঘুমানোর আগে শান্ত পরিবেশ তৈরি করা
  • মোবাইল বা টিভি থেকে দূরে থাকা
  • ঘুমের আগে গল্প পড়া বা হালকা গান শোনা
  • সকালে সূর্যের আলোতে কিছু সময় থাকা

শিশুদের বোঝাতে হবে ঘুম কেন জরুরি যেমন এটি শরীরকে শক্তিশালী করে, মস্তিষ্ককে ভালোভাবে শেখার সুযোগ দেয় এবং মন ভালো রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ঘুমের অভ্যাস অনেকটাই নির্ভর করে বাবা–মায়ের ওপর। কারণ শিশুরা সবসময় বড়দের দেখে শেখে। তাই পরিবারে যদি ঘুমকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, শিশুরাও স্বাভাবিকভাবেই সেই অভ্যাস গড়ে তোলে।

সূত্র: সিএনএন  

সর্বশেষ সংবাদ

ইরান আগ্রাসনে নেমে টমাহক মিসাইলের তীব্র সংকটে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত 'অপারেশন এপিক ফিউরি'তে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইলের তীব্র সংকটে পড়েছে...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ