spot_img

বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়েই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

অবশ্যই পরুন

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তের পেছনে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশই মূল কারণ—এ কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এটিই প্রথম পাকিস্তান সরকার বা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)-এর কোনো শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে এই বর্জনের কারণ নিয়ে মুখ খুললেন। খবর ইএসপিএনক্রিকইনফোর।

বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে শেহবাজ শরিফ বলেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা খুব পরিষ্কার অবস্থান নিয়েছি। খেলাধুলার মাঠে রাজনীতির কোনো জায়গা নেই। আমরা ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং বাংলাদেশের পাশে পুরোপুরি দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করি। এটি একটি যথাযথ ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত।”

এর আগে, গত রোববার পাকিস্তান সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তান দল বিশ্বকাপে অংশ নিলেও আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামবে না। তবে ওই পোস্টে সিদ্ধান্তের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়েই তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি পিসিবি। তবে সরকারের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা আশা করছে পিসিবি বিষয়টির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করবে। আইসিসি সতর্ক করে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেট ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যার অংশ ও সুবিধাভোগী পাকিস্তান নিজেই।

আইসিসি আরও জানায়, তারা পিসিবির কাছ থেকে সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার প্রত্যাশা করছে। তবে পিসিবি আদৌ আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছে কি না, বা দুই সংস্থার মধ্যে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত সরাসরি যুক্ত বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ঘটনার সঙ্গে। পিসিবি চেয়ারম্যান ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি আগেই আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে ‘দ্বৈত নীতি’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তাজনিত কারণে দলকে ভারতে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ চেয়েছিল, তাদের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হোক—যেখানে পাকিস্তানও তাদের সব ম্যাচ খেলবে।

এই সিদ্ধান্তে আইসিসি বোর্ডে ১৪-২ ভোটে বাংলাদেশের বিপক্ষে রায় হয়। বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও পিসিবি ছিল এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেওয়া দুই সংস্থা।

মহসিন নাকভি তখন বলেন, “এক দেশের (ভারত) জন্য এক নিয়ম, আর অন্যদের জন্য আরেক নিয়ম—এটা হতে পারে না। ভারত ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে, অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ করা হচ্ছে। এ কারণেই আমরা অবস্থান নিয়েছি। বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। তারা বিশ্বকাপে খেলার পূর্ণ অধিকার রাখে।”

পাকিস্তানের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও আইসিসির নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

তোমাকে খুব মনে পড়ে: অর্জুন কাপুর

বলিউডের এক সময়ের ‘পাওয়ার কাপল’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন অর্জুন কাপুর ও মালাইকা অরোরা। ২০২৪ সালে পথচলা আলাদা হলেও তাদের...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ