মার্কিন ধনকুবের ও টেসলার প্রধান নির্বাহী পরিচালক (সিইও) ইলন মাস্ক এবং কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টিনের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া ইমেইল সম্প্রতি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এপস্টিন-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে প্রকাশিত লাখো নথির মধ্যে ২০১২ ও ২০১৩ সালের ১৬টি ইমেইল রয়েছে, যেখানে মাস্ক একাধিকবার এপস্টিনের ক্যারিবীয় দ্বীপে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলে উঠে এসেছে। খবর টাইম ম্যাগাজিনের।
ইমেইল আদান–প্রদানের একটি পর্যায়ে ইলন মাস্কের কাছে তার ক্যারিবীয় দ্বীপ এবং নিউ মেক্সিকোর খামারে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের বিষয়ে সহায়তা চান জেফরি এপস্টিন। সেই সময় মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রের সৌরবিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠান সোলারসিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। নথি অনুযায়ী, এপস্টিন তার দ্বীপকে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল না রেখে সৌর শক্তির মাধ্যমে বিদ্যুতায়িত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এ ক্ষেত্রে মাস্কের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তা চেয়েছিলেন। এই যোগাযোগটি দেখায় যে, তাদের সম্পর্ক কেবল সামাজিক পর্যায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতসংক্রান্ত পেশাগত আলোচনাও এর অংশ ছিল।
নথি প্রকাশের পর তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে ইলন মাস্ক ইমেইলগুলোর সত্যতা স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, এপস্টিনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং তিনি বারবার দ্বীপে যাওয়ার আমন্ত্রণ নাকচ করে দিয়েছিলেন। মাস্ক বলেন, ইমেইলগুলোর কিছু অংশ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা হয়েছে।
ইমেইলগুলোর মধ্যে দেখা যায়, ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে মাস্ক লিখেছিলেন-‘আপনার দ্বীপে সবচেয়ে বুনো (ওয়াইল্ড) পার্টি কোন দিন বা রাতে হয়?’ আবার ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তিনি জানতে চান, ছুটির সময় সেখানে যাওয়ার ভালো সুযোগ বা ব্যবস্থা আছে কি না। যদিও এসব ইমেইলে মাস্কের কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এপস্টিনের ক্যারিবীয় দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’ পরে মানবপাচার ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে কুখ্যাত হয়ে ওঠে। তবে মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগের সময় এপস্টিনের সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলো এখনও জনসমক্ষে আসেনি। এপস্টিন ২০১৯ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিউইয়র্কের কারাগারে মারা যান।

