মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহে বাধা বা রক্তনালি ফেটে যাওয়ার কারণে কোষ নষ্ট হওয়াকে স্ট্রোক বলা হয়। সাধারণত বড়দের রোগ হিসেবে পরিচিত হলেও শিশুরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে। বিশ্বজুড়ে প্রতি লাখে প্রায় পাঁচজন শিশু স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়, এমনকি নবজাতক অবস্থায় বা মায়ের পেটে থাকা অবস্থায়ও (পেরিন্যাটাল পিরিয়ড) এটি হতে পারে।
শিশুদের স্ট্রোকের লক্ষণগুলো বড়দের তুলনায় আলাদা ও বৈচিত্র্যময় হওয়ায় তা শনাক্ত করা বেশ কঠিন। তবে সাধারণ কিছু লক্ষণ হলো:
ক। শরীরের একপাশে খিঁচুনি বা দুর্বলতা।
খ। খাওয়ায় অসুবিধা বা শ্বাস আটকে যাওয়া।
গ। এক পাশের হাত বেশি নাড়ানো কিন্তু অন্য পাশ স্থির থাকা।
ঘ। বিকাশ বা কথা বলায় দেরি হওয়া এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যা।
শিশুদের স্ট্রোকের প্রধান কারণসমূহ: ১. রক্তনালির সমস্যা: রক্তনালির জন্মগত ত্রুটি, নালি ফুলে গিয়ে ফেটে যাওয়া বা ময়া ময়া রোগের মতো জটিলতা।
২. হৃৎপিণ্ডের সমস্যা: হৃৎপিণ্ডে জন্মগত ছিদ্র বা ভাল্ভের ত্রুটি থাকলে রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কে গিয়ে স্ট্রোক ঘটাতে পারে।
৩. রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা: রক্ত জমাট বাঁধার উপাদানের অভাব বা আধিক্য (যেমন হিমোফিলিয়া)।
৪. অন্যান্য কারণ: মস্তিষ্কে সংক্রমণ (মেনিনজাইটিস), মেটাবলিক রোগ বা জেনেটিক ত্রুটি।
করণীয় ও চিকিৎসা: লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করানো জরুরি। হৃৎপিণ্ডের ত্রুটি শনাক্তে ইসিজি বা ইকোকার্ডিওগ্রাম এবং প্রয়োজনে রক্ত ও জেনেটিক পরীক্ষা করতে হয়। স্ট্রোকের চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি ব্যায়াম বা ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

