spot_img

ভেনেজুয়েলার পাশে চীন ও রাশিয়া, মাদুরোকে কঠোর না হতে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

অবশ্যই পরুন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মাদুরোর জন্য ক্ষমতা ছেড়ে দেয়া “বুদ্ধিমানের কাজ” হবে। ওয়াশিংটন যখন কারাকাসের ওপর চাপ আরও বাড়াচ্ছে, ঠিক সেই সময় এমন হুঁশিয়ারি এলো।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দেয়া এ সতর্কবার্তা আসে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন রাশিয়া মাদুরোর সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং চীন ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি তেল ট্যাংকার জব্দের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, চার মাস ধরে চলা চাপ প্রয়োগের অভিযান আরও জোরদার হতে পারে। মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোই কি লক্ষ্য—এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভবত তাই… এটা তার ওপর নির্ভর করছে সে কী করতে চায়। আমার মনে হয়, তার জন্য সরে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে আমরা দেখব কী হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি সে কিছু করতে চায়, যদি সে শক্ত হওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সেটাই হবে তার জীবনের শেষবার শক্ত হওয়ার সুযোগ।’ ট্রাম্পের এই হুমকি আসে এমন সময়, যখন মার্কিন কোস্ট গার্ড দ্বিতীয় দিনের মতো একটি তৃতীয় তেল ট্যাংকার ধাওয়া করছে, যেটিকে তারা ভেনেজুয়েলার তথাকথিত ‘ডার্ক ফ্লিট’-এর অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ট্রাম্প বলেন, ‘এটা এগোচ্ছে, শেষ পর্যন্ত আমরা এটা ধরব।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, কোস্ট গার্ড ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল ভেনেজুয়েলান তেল জব্দ করেছে। সেই তেল এবং জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রই রেখে দেবে। তিনি বলেন, ‘হয়তো আমরা এটা বিক্রি করব, হয়তো রেখে দেব, কিংবা কৌশলগত মজুদে ব্যবহার করব। আমরা তেলও রাখছি, জাহাজগুলোও রাখছি।’

মাদুরোর পাল্টা প্রতিক্রিয়া
মূলত মাদক পাচার দমনের নামে ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির কাছাকাছি প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী জাহাজের ওপর দুই ডজনের বেশি হামলা চালানো হয়েছে, যাতে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

তবে, মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ভেনেজুয়েলা। দেশটির অভিযোগ, ওয়াশিংটন তাদের সরকার উৎখাত করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুদ দখল করতেই এই চাপ সৃষ্টি করছে। মার্কিন জাহাজ জব্দকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ হিসেবে নিন্দাও জানিয়েছে কারাকাস।

ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাদুরো পাল্টা বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অন্য দেশকে হুমকি না দিয়ে নিজের দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার দিকে মনোযোগ দিলে আরও ভালো করতেন।

এরই মধ্যে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যারিবীয় সাগরে ওয়াশিংটনের পদক্ষেপে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি পুনর্ব্যক্ত করছে।’

সূত্র: আল জাজিরা

সর্বশেষ সংবাদ

বন্যা মোকাবেলায় প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নের আহ্বান

বন্যা মোকাবেলায় বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)। শনিবার (১৮ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ