spot_img

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কোনো কৃতজ্ঞতা দেখায়নি ইউক্রেন: ট্রাম্প

অবশ্যই পরুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার যৌথভাবে প্রণীত একটি শান্তি পরিকল্পনা মেনে নিতে চাপ দিচ্ছেন। একই তিনি ইউক্রেনের নেতৃত্বের প্রতি “কোনো কৃতজ্ঞতা দেখায়নি” বলে মন্তব্য করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ট্রুথ সোশ্যালে ইউক্রেনের নেতৃত্বকে ‘আমাদের প্রচেষ্টার প্রতি শূন্য কৃতজ্ঞতা’ দেখানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন। তিনি ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার তৈরি ২৮ দফা পরিকল্পনা মেনে নিতে বাধ্য করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই পরিকল্পনা না মানলে ইউক্রেনকে ‘একাই লড়তে হবে’ বলে তিনি সতর্ক করেন।

জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার তৈরি ২৮ দফা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই বৈঠককে ‘সবচেয়ে ফলপ্রসূ ও অর্থবহ’ বলে উল্লেখ করেছেন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধ থামাতে ইউক্রেনকে নিজেদের পূর্বাঞ্চলের কিছু অঞ্চল রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দিতে হবে এবং সামরিক বাহিনীর আকার কমাতে হবে। ইউক্রেন ও তাদের মিত্ররা এটিকে মস্কোর কাছে কিয়েভের আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখছে।

এই ২৮ দফা পরিকল্পনার প্রবল সমর্থক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার বলেন, যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র যে প্রচেষ্টা করেছে, ইউক্রেন তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনি—যদিও ন্যাটোর মাধ্যমে মার্কিন অস্ত্র কিয়েভে পৌঁছতে থাকছে এবং ইউরোপ রুশ তেল কিনে চলেছে।

ট্রাম্প ইউরোপের দেশগুলোর সমালোচনা করেছেন, কারণ তারা যুদ্ধ শুরুর পরও রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল কিনেছে। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ‘কুটিল’ আখ্যা দেন এবং বলেন যে বাইডেনের কারণেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে অভিযান চালানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে তিনি সরাসরি মস্কোর কোনো নিন্দা জানাননি।

জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের মিশনে রবিবার বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারকো রুবিও নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধিদল ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মূল বৈঠক শুরু হয় টানটান পরিবেশে—এর আগেই ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ অভিযোগ করেন যে ইউক্রেনের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার প্রতি ‘শূন্য কৃতজ্ঞতা’ দেখিয়েছে এবং ইউরোপ রাশিয়ার তেল কিনে চলেছে। মার্কিন পরিকল্পনা ঘোষণার পর কে এটি তৈরি করেছে, তা নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ইউরোপীয় মিত্ররা বলেন, তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি।

বৈঠক শুরু হওয়ার সময় জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎস বলেন, লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিকল্পনা তৈরি করা যা ইউক্রেন গ্রহণযোগ্য মনে করবে এবং যা রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তি হতে পারবে।

মেৎস বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি এখনো নিশ্চিত নই যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান এমন সমাধান পেয়ে যাব,’—দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে জি২০ বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

জেনেভায় রওনা হওয়ার আগে রুবিও এক্সে জোর দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটনই পরিকল্পনাটি রচনা করেছে—এমন মন্তব্যের পর যেগুলিতে কিছু মার্কিন সিনেটর ইঙ্গিত করেছিলেন যে পরিস্থিতি অন্য রকম।

সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং বলেন, রুবিও সিনেটরদের জানিয়েছিলেন যে এই পরিকল্পনা প্রশাসনের অবস্থান নয়, বরং ‘মূলত রাশিয়ার ইচ্ছার তালিকা’।

রোববার রয়টার্সে দেখা একটি নথি অনুযায়ী, ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার একটি সংশোধিত সংস্করণ জমা দিয়েছে, যাতে কিয়েভের সশস্ত্র বাহিনীর ওপর প্রস্তাবিত সীমা এবং ভূখণ্ড ছাড়ের বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ লড়াই করবে ভারত-ইসরায়েল

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত ও ইসরায়েল ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেছে। কৌশলগত সম্পর্ক আরও...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ