spot_img

মানুষ মৃত্যুর পর যা যা আশা করবে

অবশ্যই পরুন

দুনিয়াতে মানুষ তাঁর আশা অনুযায়ী চেষ্টা সাধনা করে, সে কখনো কখনো লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু মৃত্যু পরবর্তী জীবন যে জীবনে মানুষ অনেক কিছুই আশা করবে, তার কোরোটা বিন্দুমাত্র বাস্তবায়ন করার সুযোগ পাবে না। নিম্নে আমরা মানুষ মৃত্যুর পর কী কী আশা করবে, তা নিয়ে আলোচনা করা হলো

এক. দ্রুত কাফন দাফন করার আশা করবে। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন জানাজা (খাটিয়ায়) রাখা হয় এবং পুরুষ লোকেরা তা তাদের কাঁধে তুলে নেয়, সে পুণ্যবান হলে তখন বলতে থাকে, আমাকে সামনে এগিয়ে দাও। আর পুণ্যবান না হলে সে আপন পরিজনকে বলতে থাকে, হায় আফসোস! এটা নিয়ে তোমরা কোথায় যাচ্ছ? মানুষ ছাড়া সবাই তার চিৎকার শুনতে পায়। মানুষ যদি তা শুনতে পেত তবে অবশ্যই অজ্ঞান হয়ে যেত।’ (বুখারি, হাদিস, ১৩১৬)

দুই. সৎ লোক আশা করবে যাতে দ্রুত কিয়ামত কায়েম হয়ে যায়। যেন সে চিরস্থায়ী ও সম্মানের আসনে আসীন হতে পারে। আর পাপিষ্ঠ কেয়ামত না হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে।

মুমিন ব্যক্তি বলবে, হে আল্লাহ! তুমি কিয়ামত কায়েম করে ফেলো। হে আল্লাহ! তুমি কিয়ামত কায়েম করে ফেলো। আমি যেন আমার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের কাছে যেতে পারি। কাফির বলবে, হে আমার রব! তুমি কিয়ামত কায়েম কোরো না। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৮৫৩৪)

তিন. পরিবার-পরিজনকে তার অবস্থা জানানোর আকাঙ্ক্ষা করবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কবরে সওয়াল জওয়াবের পর মুমিন ব্যক্তিকে বলা হবে, তুমি ঘুমিয়ে থাকো। তখন সে বলবে, আমার পরিবার-পরিজনকে সুসংবাদ দেওয়ার জন্য আমি তাদের কাছে ফিরে যেতে চাই। তারা উভয়ে (মুনকার-নাকির) বলবেন, বাসর ঘরের বরের মতো তুমি এখানে এমন গভীর ঘুম দাও, যাকে তার পরিবারের সবচাইতে প্রিয়জন ছাড়া আর কোনো ব্যক্তি জাগিয়ে তুলতে পারে না।’ ( তিরমিজি, হাদিস : ১০৭১)

চার. আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাত বরণকারী আশা করবে তাঁকে পুনরায় দুনিয়াতে পাঠানো হোক, যাতে সে আবার আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাত বরণ করতে পারে। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতে প্রবেশের পর আর কেউ দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা করবে না, যদিও দুনিয়ার সব জিনিস তাঁকে দেওয়া হয়। একমাত্র শহীদ ছাড়া, সে দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা করবে যেন ১০ বার শহীদ হতে পারে। কেননা সে শাহাদাতের মর্যাদা দেখেছে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৮১৭)

পাঁচ. মৃত ব্যক্তি যখন নিজ চোখে কবরে দেখতে পাবে নামাজের এত এত প্রতিদান। তখন সে পুনরায় জীবিত হয়ে নামাজ পড়ার আকাঙ্ক্ষা করবে। রাসুল (সা.) একবার এক কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি সাহাবাদের বলেন এটা কার কবর? সাহাবারা বলেন, অমুকের। তখন রাসুল (সা.) বলেন, এই ব্যক্তির কাছে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা পুরো পৃথিবীর চাইতে শ্রেষ্ঠ।’ (ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ৭৭১৫)

ছয়. সম্পদ সদকা করার আশা করবেন। সদকা করা আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় আমল। এবং সদকা আল্লাহর ক্রোধ নিভিয়ে দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি তোমাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো, তোমাদের কারো মৃত্যু আসার আগে। কেননা তখন সে বলবে, হে আমার রব, যদি আপনি আমাকে আরো কিছু কাল পর্যন্ত অবকাশ দিতেন, তাহলে আমি দান-সদাকা করতাম। আর সৎ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। আর আল্লাহ কখনো কোন প্রাণকেই অবকাশ দেবেন না, যখন তার নির্ধারিত সময় এসে যাবে। আর তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।’ (সুরা মুনাফিকুন, আয়াত : ১০-১১)

সাত. সৎ আমল করার আকাঙ্ক্ষা করবে। দুনিয়াতে তাঁকে যদি কিছুক্ষণের জন্য ফিরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে সে আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের মাঝেই কাটিয়ে দেওয়ার বাসনা করবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু আসে, সে বলে, হে আমার রব! আমাকে আবার ফেরত পাঠান। যাতে আমি সৎ কাজ করতে পারি যা আমি আগে করিনি। না, এটা হওয়ার নয়। এটা তো তার একটি বাক্যমাত্র, যা সে বলবেই। তাদের সামনে বারজাাখ থাকবে উত্থান দিন পর্যন্ত।’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ৯৯-১০০)

আল্লাহ তাআলা আমাদের মৃত্যুর আগে পরকালের পাথেয় সংগ্রহ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সর্বশেষ সংবাদ

রিয়াল-ম্যানসিটি চেনারূপেই, লিভারপুলের হোঁচট, ৯ গোল করে কোমোর রেকর্ড

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দানবীয় রূপ ধারণ করেছে সেস ফ্যাব্রেগাসের কোমো। বুধবার রাতে লেন্সকে রীতিমত উড়িয়ে দিয়েছে ক্লাবটি। অ্যাথেন্সে পিছিয়ে পড়েও...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ