spot_img

ইরানের বিরুদ্ধে আবার যুদ্ধ শুরুর জন্য ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু

অবশ্যই পরুন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করতে চান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প। এদিকে কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান দ্রুত পুনরায় শুরুর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই যেন নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হয়, সে বিষয়ে আগ্রহী তিনি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার এক ফোনালাপে ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর আহ্বান জানান নেতানিয়াহু। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর আগে গত বছরও দুই দেশের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ হয়। এসব সংঘাতের প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তারা গত সপ্তাহান্তে সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের সংঘাতগুলোর চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একজন ব্যক্তি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের জন্য শেষবারের মতো একটি সুযোগ দিতে চায়। কিন্তু নেতানিয়াহু সরকার কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী নয়; বরং তারা ইরান সংকটের সামরিক সমাধান চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তাও দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু যুদ্ধ পুনরায় শুরু করতে চান, তবে ট্রাম্প এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি। ফোনালাপের বিস্তারিত তথ্য প্রথম প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরেকটি সামরিক অভিযান শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধ এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালানোর পাশাপাশি সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছিল।

কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা
যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি করতে উদ্যোগী হয়েছেন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা। এ উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে কাতার।

প্রস্তাবটির ভিত্তি হলো গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উপস্থাপিত ইরানের সাত দিনের পরিকল্পনার একটি সংশোধিত সংস্করণ।

এ লক্ষ্যে সপ্তাহান্তে দোহায় মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা। এর আগে শুক্রবার কাতারের একটি আলোচক দল তেহরানে এক দিনব্যাপী বৈঠক করে।

প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তী চুক্তিতে যেসব বিষয় রয়েছে—

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেবে।
ইরানকে তেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হবে।
বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের কিছু সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।
বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখবে।
এসব শর্ত বাস্তবায়নের পর একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
তবে আলোচনায় এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে কোন পক্ষ আগে চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করবে এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক মজুত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) পরিদর্শকদের একটি সময়সূচি নির্ধারণে সম্মত হওয়ার দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এসব স্থাপনায় সংরক্ষিত রয়েছে। দেশটির কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বারবার দাবি করে আসছে, ইরানকে তার পারমাণবিক মজুত পরিত্যাগ করতে হবে এবং দেশের বাইরে অন্য কোথাও তা স্থানান্তর করতে হবে।

তবে ইরানি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যেই এ ধরনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছেন।

সব মিলিয়ে, একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরুর জন্য নেতানিয়াহুর চাপ, অন্যদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা—দুই বিপরীতমুখী পরিস্থিতির মধ্যেই রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প কোন পথে এগোবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সূত্র: ফিনান্সিয়াল টাইমস

সর্বশেষ সংবাদ

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জিতলে সব বিলে ভেটো দেবেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে তাদের আনা প্রতিটি বিল আটকে দিতে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ