spot_img

যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন শর্ত ইরানের, দুই দিনেই খুলতে পারে হরমুজ

অবশ্যই পরুন

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দাবিগুলো মেনে নিলে মাত্র দুই দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত তেহরান। একই সঙ্গে প্রণালিটির নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।

সোমবার (২ নভেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ কথা জানান।

তিনি বলেন, দুই দিনের মধ্যে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ইরানের সদিচ্ছার প্রমাণ। ইরানের দাবিগুলো পূরণ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আলোচনার প্রক্রিয়া আবার শুরু করা সম্ভব।

বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। তবে ইরানের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর করছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হলেই কেবল পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা যাবে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে ইরান। দেশটির অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোকে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর জবাবে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত সেপ্টেম্বরে ইরান প্রথমে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করে। কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ওয়াশিংটন ইরানের দাবিগুলো মেনে নিলে ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।

ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সব রণাঙ্গনে যুদ্ধের অবসান, বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা, দেশটির তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের অবসান।

রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান ও ওমানের মধ্যে সম্মত নতুন পথ যুক্তরাষ্ট্রকে মেনে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাসংখ্যা কমানোর পদক্ষেপও নিতে হবে ওয়াশিংটনকে। আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তেহরান ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক শ্বাসরোধের নীতি হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এদিকে, দুই দেশেই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সামনে রেখে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের ওপর নতুন করে হামলার হুমকি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতসহ এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তু নিয়ে তাঁকে এখনো ব্যবস্থা নিতে হবে। স্থানটিকে সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সেখানে এমন কোনো স্থাপনা থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে তেহরান।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা সামরিক হামলা যে পদ্ধতিতেই চালানো হোক না কেন, তার শক্তিশালী, তাৎক্ষণিক ও সর্বাত্মক জবাব দেওয়া হবে।

সূত্র: এএফপি

সর্বশেষ সংবাদ

ইরানে হামলার মূল্য দিতে হচ্ছে মার্কিনিদের: বিল ক্লিনটন

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই এ অভিযান পরিচালনা করায় এর...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ