মানুষের জাতীয়তা, ধর্ম, বর্ণ কিংবা শ্রেণি যা-ই হোক না কেন, প্রত্যেকের প্রতি মানবিক আচরণ ও সম্মান বজায় রাখতে হবে। মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সহমর্মিতা ও দয়াশীলতার মাধ্যমে একটি সুন্দর ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘সমসাময়িক বিশ্বে সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইন’ শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি তার নানার জীবনের একটি ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৩০-এর দশকে এক ব্যক্তি তাদের পুকুর থেকে মাছ নিয়ে যাচ্ছিলেন। ঘটনাটিকে মাছ চুরি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ থাকলেও তার নানামশাই ওই ব্যক্তিকে চোর বলেননি। বরং তাকে একজন দরিদ্র ও অসহায় মানুষ হিসেবে দেখেছিলেন। মাছ নেয়ার ঘটনাকে চুরি হিসেবে না দেখে ওই ব্যক্তির পরিবারের খাবারের সংস্থান হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, মানুষের জাতীয়তা, ধর্ম, বর্ণ কিংবা শ্রেণির পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বিচার করা উচিত নয়। বরং সবার প্রতি দয়াশীল হতে হবে এবং এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে, যাতে আমাদের দ্বারা অন্য কারও ক্ষতি না হয়। এ ধরনের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পারলেই একটি সুন্দর বিশ্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।
এ সময় বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ।
সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও আইন বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককুয়ারি ইউনিভার্সিটির ম্যাককুয়ারি ল স্কুলের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এম. রফিকুল ইসলাম এবং মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়ার আইন অনুষদ ও ইনস্টিটিউট অব ওশান অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেসের অধ্যাপক ডাটিন ড. মেরি জর্জ।
এ ছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাকিব মুহাম্মদ নসরুল্লাহ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আবু নাসের এম. ওয়াহিদ।
সম্মেলনের আহ্বায়ক ছিলেন আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বেগম আসমা সিদ্দিকা এবং সদস্যসচিব ছিলেন আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সাঈদা আনজু।
আইন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন ৩০ ও ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

